নরসিংদীর চাঞ্চল্যকর মণি চক্রবর্তী হত্যার দুই আসামী গ্রেপ্তার
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
নরসিংদীর পলাশে চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তী হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ৯ মাস পর মামলার প্রধান আসামীসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে নরসিংদী শহর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- রাজেন্দ্র চৌহান রাজু ও সাগর চৌহান। রাজেন্দ্র চৌহান রাজু পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজার গোদারাঘাট এলাকার মঙ্গল চৌহান এর ছেলে এবং সাগর চৌহান একই এলাকার চন্দ্রন চৌহানের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে নিজ বাড়ির ফটকের সামনে মনি চক্রবর্তীকে পরিকল্পিতভাবে পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
মনি চক্রবর্তী চরসিন্দুর বাজার এলাকায় রাজেন্দ্র চৌহান রাজুর সাথে পাটনার হিসেবে মাটি কাটার এক্সেলেটর ও পাথরের ব্যবসা করতো। ঘটনার দিন রাতে চরসিন্দুর বাজারে তার বাবার মুদি দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে পিছু নেয় দুর্বৃত্তরা। মনি চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে নিজ বাড়ির ফটকের সামনে গেলে পিছন দিক থেকে তার মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এতে সে ঘটনাস্থলেই মাটিতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় পলাশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের পিতা মদন চক্রবর্তী।
নিহতের পিতা মদন চক্রবর্তী বলেন, আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর রাজেন্দ্র চৌহান রাজু আমাকে ভুলবুঝিয়ে থানায় নিয়ে যায়। পরে আমি বাড়ি ফিরে আসলে পরদিন সকালে আবার থানায় যেতে বলে এবং রাজু আমাকে জানায় আপনি শুধু থানায় আসবেন এবং একটি স্বাক্ষর দিয়ে চলে যাবেন। সে আমাকে কৌশলে থানায় নিয়ে আসে এবং অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে পলাশ থানায় একটি মামলা দায়ের করান। যার মামলা নং ৭, তারিখ: ০৭/০১/২০২৬ইং, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড। এ মামলায় পলাশ থানা পুলিশ ইমরান হোসেন, রনি মিয়া, সুমন মিয়া ও মেহেদী হাসান নামে চার জনকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তারা সকলেই জামিনে আছেন।
নিহত মনি চক্রবর্তীর স্ত্রী অন্তরা মূখার্জী বলেন, আমার স্বামীর সাথে রাজেন্দ্র চৌহান রাজু ব্যবসায়ীক পার্টনার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। এর মধ্যে আমার স্বামী রুমানিয়া যাবার জন্য ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আসার কারণে ব্যবসার লাভ লোকসান হিসেব করে পাওনা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যবসায়ী পার্টনার রাজেন্দ্র চৌহান রাজুর কাছে দাবি করে। টাকা ফেরৎ চাওয়ার কারণেই তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে রাজেন্দ্র চৌহান রাজু ভাড়াটিয়া খুনিদের দিয়ে আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করে। হত্যার পর তারাই আমার শ^শুরকে ভুল বুঝিয়ে তাড়াহুড়া করে কৌশলে পলাশ থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে একটি মামলা দায়ের করান। যার কারণে পূনরায় আমি বাদি হয়ে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চেয়ে গত ১০ মার্চ নরসিংদীর আদালতে রাজেন্দ্র চৌহান রাজু, সোমা চৌহান, সাগর চৌহান ও শ্যামল চৌহানের নামে একটি মামলা দায়ের করি।
মামলার তদন্তকারী অফিসার নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই শেখ মোঃ জসিম জানান, মনি হত্যাকান্ডের ঘটনায় রাজেন্দ্র চৌহান ও সাগর চৌহান নামে দুই জনকে রবিবার দিবাগত গভীর রাতে নরসিংদী শহর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডানের আবেদন করা হয়। আদালত পরবর্তী তারিখে রিমান্ডের শুনানী করবেন।



