সোহাগ অপহরণ মামলায় ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ও মীম শরৎ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ অপহরণ মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা আমলি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এম. সাইফুল ইসলাম অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। মামলার অভিযোগপত্র নম্বর ৩১৮।
তদন্ত শেষে পুলিশ সাতজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং তিনজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। বাদীপক্ষের অভিযোগপত্র নিয়ে কোনো আপত্তি না থাকায় এবং উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তা গ্রহণ করেন।
অভিযোগপত্রে অভিযুক্তরা হলেন মো. আল আমিন শেখ ওরফে জিতু, মো. কবির হালদার, লতিফ সিদ্দিকী রতন, সাব্বির আহমেদ, ইরান হোসেন মোহন, মো. সাকিব হোসেন ও মো. ছাহাদ গণ। পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তিনজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুন রাতে সরকারি তোলারাম কলেজের সামনে থেকে মোহাম্মদ সোহাগকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। পরদিন ২ জুন পটুয়াখালীর পায়রা বন্দর এলাকার একটি ফেরিঘাটের কাছ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় সোহাগের স্ত্রী তানিয়া আহম্মেদ বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার নম্বর ১২(০৬)২৫। এতে দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তের সময় বিভিন্ন আলামত, সাক্ষীদের বক্তব্য, প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। অপহরণে ব্যবহৃত যানবাহন, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্য তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অভিযোগত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সাতজনের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।
আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের পর মোহাম্মদ সোহাগ বলেছেন, “আমি মনে করি আইনের বিচার ও ন্যায়বিচার হবে। চার্জশিটে যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমি প্রত্যাশা করি, আদালতের মাধ্যমে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে।”
অভিযোগপত্র গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলাটি এখন বিচারিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে।
মামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য হলো, ভুক্তভোগী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সোহাগ, বাদী তানিয়া আহম্মেদ, মামলা নম্বর ১২(০৬)২৫, থানা ফতুল্লা মডেল থানা, নারায়ণগঞ্জ, ধারা দণ্ডবিধির ৩৬৪/৩৪, ঘটনার তারিখ ১ জুন ২০২৫, উদ্ধার ২ জুন ২০২৫ পায়রা বন্দর এলাকা, পটুয়াখালী এবং অভিযোগপত্র নম্বর ৩১৮।



