পদ্মার পানি সতর্কসীমায়, পানিবন্দী প্রায় ২ হাজার পরিবার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪১ পিএম
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে টানা সাত দিন ধরে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় গত ২৪ ঘণ্টায় নদীটির পানি ১১ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত হয়েছে কৃষিজমিও। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দী এলাকার বাসিন্দারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম বলেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির মধ্যে আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ রয়েছে। পানি আরও বাড়লে কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে।
পানি ঢুকে পড়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয়, কলেজ ও মাদরাসা রয়েছে। পানি ওঠায় এসব প্রতিষ্ঠানে আপাতত পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর বিপৎসীমা ২২ দশমিক ০৫ মিটার। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
শুধু পদ্মা নয়, জেলার মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানিও বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদী দুটির পানি ১০ সেন্টিমিটার করে বেড়েছে। মহানন্দা নদীর বিপৎসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার এবং পুনর্ভবা নদীর বিপৎসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার।
পানি বাড়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও ঘরের আঙিনা, কোথাও বসতবাড়ির আশপাশে পানি জমেছে। এতে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গবাদিপশু, ঘরের আসবাব ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেকে।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) একরামুল হক নাহিদ বলেন, পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, শুকনো খাবার ও ওষুধ বিতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ পরিবারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে ত্রাণের আওতায় আনা হবে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে জেলার তিনটি নদীর কোনোটিরই বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই।
তবে পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে। এ কারণে নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
উজানের ঢলে নদীর পানি বাড়লেও আপাতত বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা না থাকায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবে পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। পানি দ্রুত কমে স্বাভাবিক জীবন ফিরবে—এটাই এখন প্লাবিত এলাকার মানুষের প্রত্যাশা।



