শ্বশুরবাড়ির পথে নিভে গেল শামীমের জীবন
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা ছিল ভোলার যুবক মোহাম্মদ শামীমের। অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় শ্বশুর বাড়ীর উদ্দেশ্যে যাত্রাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রা থেমে গেল শ্বশুর বাড়ীর একেবারেই সন্নিকটে পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাটে। পূরণ হল না শ্বশুর বাড়ী যাওয়ার সাধ।
মগনামা লঞ্চঘাটে বোটে ওঠার সময় অসাবধানতাবশত সাগরের পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন শামিম। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর নিখোঁজের প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার মরদেহ।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পেকুয়া উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাট সংলগ্ন সাগর থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করে।
এর আগে, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে মগনামা ইউনিয়নের লঞ্চঘাট এলাকায় কুতুবদিয়াগামী একটি ডেনিস বোটে ওঠার সময় সাগরের পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন শামিম।
নিহত মোহাম্মদ শামিম ভোলা জেলার বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একটি শিপিং কোম্পানিতে চাকরি করতেন। প্রায় এক বছর আগে কুতুবদিয়ার করিনা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্ত্রীকে নিয়ে এবারই প্রথম কুতুবদিয়ায় শ্বশুর বাড়ী যাচ্ছিলেন তিনি।
শামীমের স্ত্রী করিনা বেগম জানান, তিনি চট্টগ্রামের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। অসুস্থতার কারণে স্বামী শামীমকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি কুতুবদিয়ায় যাচ্ছিলেন। কিন্তু মগনামা লঞ্চঘাটে পৌঁছে বোটে ওঠার সময় তার চোখের সামনেই অসাবধানতাবশত সাগরের পানিতে পড়ে যান তার স্বামী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার স্বামী সাঁতার জানতেন। কিন্তু পানিতে পড়ার পর খুব দ্রুত ডুবে যান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।”
মগনামা লঞ্চঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম জানান, বোটে ওঠার সময় অসাবধানতাবশত ওই যুবক পানিতে পড়ে যান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
পেকুয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌবাহিনীর ডুবুরিদের সমন্বয়ে নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত হয়ে যাওয়ায় শনিবারের উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা হয়। পরে রোববার সকালে পুনরায় অভিযান শুরু করে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল সংলগ্ন একই স্থান থেকে শামীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইমরুল হাসান জানান, সাগরে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে মরদেহটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্ত্রীর হাত ধরে প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার শেষ হলো সাগরের বুকে। পূরণ হলো না শামীমের প্রথমবার শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার স্বপ্ন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।



