সততা-নীতিকে শক্তি করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় যুব অধিকার পরিষদের
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
সবাই মিলে গড়বো দেশ, তারুণ্যের বাংলাদেশ—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা শহরের পুরানথানা টিনপট্টি এলাকার সংগঠনের জেলা কার্যালয়ে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের জেলা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কেক কাটার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আকন্দ মো. উজ্জ্বল, সাধারণ সম্পাদক অভি চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক কবি আল মোহাম্মদ মস্তফা, যুব অধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মো. সোহাগ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান, সিনিয়র সহসভাপতি ইকবাল হোসেন, যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. ইব্রাহিম মিয়া, ছাত্র অধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ইমন খান, সাধারণ সম্পাদক পায়েল চৌধুরী, শ্রমিক অধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নুরুল হক সরকারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উদযাপন করাই তাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি দেশের কল্যাণে তরুণদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা, সাবেক ডাকসু ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।
যুব অধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান বলেন, “আমরা হয়তো সংখ্যায় কম এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি সততা, ন্যায় ও নীতি। গণঅধিকার পরিষদ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত এক টাকার দুর্নীতি বা চাঁদাবাজির অভিযোগও ওঠেনি—জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এই সততা ও আদর্শকে পুঁজি করে আমরা আগামী বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “কে আমাদের ছেড়ে যাচ্ছে বা কতজন আমাদের সঙ্গে আছে—তা বড় বিষয় নয়। সত্যের পথে সবসময় সংখ্যায় কম মানুষই থাকে। আমরা যদি আদর্শ ও নীতিতে অবিচল থাকি, বিজয় একদিন আমাদের আসবেই।”
জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. সোহাগ মিয়া বলেন, “জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ও আহত হয়েছেন, তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। দীর্ঘদিনের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে সেগুলো সংশোধন করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, ২০২৬ সালে এসে আমরা তা বাস্তবায়নের পথে অনেকটা এগিয়েছি।”
তিনি বলেন, “২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের যাত্রা শুরু হয়। এর অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুব অধিকার পরিষদ দেশের ৬৪ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তরুণদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও যুব, ছাত্র ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।”
সোহাগ মিয়া আরও বলেন, “জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নকে যারা কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে, তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ভিপি নুরুল হক নুরের কণ্ঠ কখনোই দাবিয়ে রাখা যাবে না। নুরের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার জন্য আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশের বিভিন্ন খাতে তাদের সম্পৃক্ত করা এবং ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুব অধিকার পরিষদ সবসময় পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।”
গণঅধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অভি চৌধুরী বলেন, “২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে যুব অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও দেশের বিভিন্ন জেলায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় এখনো বিচার হয়নি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী থেকে আমরা ওই হামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
গণঅধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আকন্দ মো. উজ্জ্বল বলেন, “হাসিনা সরকারের পতনের পর ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হামলা বাংলাদেশের রাজনীতির একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক নেতার ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হামলা জাতি ও রাজনীতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার। ওই হামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্ত ও বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলার বিচার নিশ্চিত করে তা জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে হামলা, নির্যাতন ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের ঘটনাতেও সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”



