খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ বন্ধ, কম দামে ধান বিক্রি করে বিপাকে কৃষক
কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে ধানের দাম কমে গেছে।
উৎপাদন খরচের সঙ্গে বাজারদরের সমন্বয় না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক স্থানীয় আড়তদারদের কাছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করছেন।
গত ৯ আগস্ট খাদ্য অধিদপ্তরের টেলিফোনে দেওয়া নির্দেশনার পর কলমাকান্দা খাদ্য গুদামে সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এ বছর নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ৩১ আগস্ট।
খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কলমাকান্দায় সরকারি ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৩১৯ মেট্রিক টন। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ২ হাজার ১১৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনো ২০৪ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ বাকি রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনে খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু সরকারি সংগ্রহ বন্ধ থাকায় তাঁরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। স্থানীয় আড়তগুলোতেও কম দামে ধান কেনা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, ধান সংরক্ষণ করে রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ও আর্থিক সক্ষমতা অনেকের নেই। কৃষিঋণ পরিশোধ ও পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। এ সুযোগে কিছু আড়তদার কম দামে ধান কিনছেন বলেও অভিযোগ তাঁদের।
উপজেলার নয়াচৈতা এলাকার ক্ষুদ্র কৃষক আব্দুল রাজ্জাক বলেন, ‘সরকারি ধান ক্রয় বন্ধ হওয়ার পর বাধ্য হয়ে অনেকেই ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করছেন। এতে ব্যাপক লোকসান হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এ বছর প্রতিদিন কাঠাপ্রতি শ্রমিককে ১ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে ধান কাটিয়েছি। ৮০০ টাকা দরে ধান বিক্রি করলে কমপক্ষে ৬০ হাজার টাকা লোকসান হবে। আমাদের মতো কৃষকদের চলা দায়।’
এদিকে লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া ও খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়দুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের ইউনিয়নের কোনো কৃষকই খাদ্য গুদামে ধান দিতে পারেননি। এতে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানান তাঁরা।
কৃষকেরা সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পুনরায় চালুর পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, সরকারি সংগ্রহ শুরু হলে বাজারে ধানের দাম স্থিতিশীল হবে এবং কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাবেন।
ধান সংগ্রহ বন্ধ থাকায় কৃষকদের পাশাপাশি স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যেও এর প্রভাব পড়ছে। দ্রুত সরকারি উদ্যোগে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মুসলিমা বেগম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ক্ষুদে বার্তার নির্দেশনায় ধান সংগ্রহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ বছর ২ হাজার ৩১৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ২ হাজার ১১৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।



