Logo
Logo
×

সারাদেশ

বাঙালি নদীতে নৌকা বাইচ, দুই পাড়ে উৎসবের আমেজ

Icon

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:০১ পিএম

বাঙালি নদীতে নৌকা বাইচ, দুই পাড়ে উৎসবের আমেজ

বাঙালি নদীতে থইথই পানি। সেই পানিতে রঙিন সাজের নৌকা ছুটছে। গলুইয়ের সামনে বসে ঢাক বাজাচ্ছেন বাদ্যকার। গায়েনের কণ্ঠে ভেসে আসছে সারি গান। তালে তালে বৈঠা টেনে নৌকা ছুটিয়ে নিচ্ছেন মাঝিমাল্লারা। আর নদীর দুই পাড়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস, হাততালি ও আনন্দধ্বনিতে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের চোমর পাথালিয়া গ্রামে বাঙালি নদীতে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীর দুই পাড়ে কয়েক হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে নদীর তীরের প্রায় ২০০ বিঘা জমিতে বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা। মেলায় প্রায় ৪০০ দোকানি বিভিন্ন ধরনের পসরা সাজিয়েছেন। মিষ্টি, খাবার, খেলনা ও কাঠের আসবাবের দোকানের পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা। ফলে নৌকা বাইচের পাশাপাশি মেলাকেও ঘিরে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

আয়োজকেরা জানান, গত শুক্রবার বিকেলে নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আগামী বুধবার পর্যন্ত প্রতিদিন এ আয়োজন চলবে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বাঙালি নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের প্রতিযোগিতায় বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মোট ১৩টি নৌকা অংশ নিয়েছে।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বন্যার পানিতে কৃষকের ফসলের ক্ষতি হলেও নদীর পানিতে এমন আয়োজন গ্রামীণ মানুষের জন্য আনন্দের বড় উপলক্ষ। ঢাকের বাদ্য, সারি গানের সুর আর মাঝিমাল্লাদের ছন্দময় বৈঠার টানে নদীর দুই পাড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবের আবহ। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে পরিবার নিয়ে এ নৌকা বাইচ দেখতে এসেছেন।

আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে বন্যার পানি কমার পর বাঙালি নদীতে এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হচ্ছে। নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আশপাশের ১০ থেকে ১৫টি গ্রামে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিবছরই এ আয়োজন দেখতে বিপুলসংখ্যক মানুষ নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন।

শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, নৌকা বাইচ ও মেলা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত এ নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন