নরসিংদীতে ২৮৭ মেধাবী শিক্ষার্থীকে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৯ এএম
নরসিংদী সদর উপজেলা থেকে জুনিয়র বৃত্তি (জেএসসি ও জেডিসি) পরীক্ষায় সাধারণ গ্রেড ও ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৮৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা দিয়েছে নরসিংদী সদর উপজেলা প্রশাসন। প্রচলিত ক্রেস্ট ও সনদপত্রের পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ ও বৃক্ষরোপণে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি করে গাছের চারা।
নরসিংদী সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৪ আগস্ট বিকেলে সদর উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া।
নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেদ, নরসিংদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মাখন দাস, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান এবং সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি প্রয়োজন বাস্তবজীবনের শিক্ষা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির চর্চা। সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবন গঠনে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাদের কেউ প্রশাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রকৌশল কিংবা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করবে। তাই ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাবা-মা, শিক্ষক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং ছোটদের প্রতি স্নেহ ও সহমর্মিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এসব মূল্যবোধই একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতে একজন মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান একটি প্রচলিত রীতি। তবে এর সঙ্গে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে নরসিংদীতেও ব্যাপকভাবে গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলা হলে ভবিষ্যতে তারা দেশ ও সমাজের জন্য আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। একটি গাছের চারা শুধু সম্মাননার স্মারক নয়, এটি শিক্ষার্থীদের হাতে পরিবেশ রক্ষার একটি প্রতীকী দায়িত্বও তুলে দেওয়ার বার্তা বহন করে।
আলোচনা পর্ব শেষে বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৮৭ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করে।



