উখিয়ায় স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
কক্সবাজারের উখিয়ায় স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার মধ্যরাত সাড়ে ১২ টার দিকে উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের মরিচ্যা বাজার এলাকায় বিক্ষুদ্ধ স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষকের বাসা ঘেরাও করে রাখে। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। এবং সোমবার সকালে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে একটি মামলাটি দায়ের করেছেন বলে জানান, উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার।
অভিযুক্ত ফারুক ইব্রাহিম (৪৮) মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক পদে কর্মরত।
ভুক্তভোগী ওই স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অশালীন ও যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করে আসছিলেন। সর্বশেষ রবিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে পাঠদানকালে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সঙ্গে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানিমূলক আচরণ করেন।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর চাচা বলেন, “ অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুক ইব্রাহিম একাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত যৌন হয়রানি করে আসছিলেন বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সর্বশেষ রবিবার দুপুরে আমার ভাতিজির সঙ্গে যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেছেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে রাতে স্থানীয় জনতা তার বাসা ঘেরাও করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।”
ঘটনার পর মরিচ্যা পালং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি কোন ধরণের সাড়া না দেয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কয়েক দফা বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ঘটনার ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, “ রাতে অভিযোগের বিষয়ে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। পরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। “
সোমবার সকালে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আসামী করে থানায় এজাহার দায়ের করলে মামলা নথিভূক্ত করা হয়েছে এবং শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।



