সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন গোপালগঞ্জের চাষিরা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন গোপালগঞ্জের চাষিরা
বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ার পরও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চাষিরা। তবে তারা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আখ চাষে কৃষকদের আগ্রহ আবারও বৃদ্ধি পাবে।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার টেংরাখোলা, পশারগাতি, গোবিন্দপুর, মহারাজপুর, বাটিকামারী ও বাহিরবাগ গ্রাম একসময় আখ চাষের জন্য বিখ্যাত ছিল। এলাকার বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে আখ চাষ হতো। তবে বর্তমানে মাত্র ৩৫ জন কৃষক এই পেশার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২২ হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও মাত্র ১৯ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ করা হয়েছে।
উপজেলার কদমপুর গ্রামের আখচাষি মো. ইদ্রিস মোল্যা বলেন, বিগত ৪০ বছর ধরে আখ চাষ করছি। অন্যান্য ফসলের চেয়ে আখ চাষে ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি হয়। কিন্তু কৃষি অফিস চাষিদের কোনো খোঁজখবর রাখে না। অন্যান্য ফসলের মতো আখ চাষিদের জন্যও যদি কীটনাশক ও সার বিনামূল্যে সরবরাহ করা হতো, তাহলে আগের মতো সুদিন ফিরে আসত।
টেংরাখোলা গ্রামের চাষি মোক্তার শেখ বলেন, আখ দীর্ঘমেয়াদি ফসল হলেও এতে বাম্পার ফলন পাওয়া যায়। আমি এ বছর এক একর জমিতে চাষ করেছি, খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এই আখ বিক্রি করে লাভ হবে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু এই এলাকায় কোনো সুগারমিল না থাকায় হাটে-বাজারে গিয়ে আখ বিক্রি করতে হয়। সুগারমিলগুলো যদি খেত থেকেই আখ কিনে নিত, তবে আখ চাষে সুদিন ফিরত।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, আখ চাষে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) আওতাধীন বিভিন্ন চিনিকল কর্তৃপক্ষ এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে থাকে। তারা আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাতের বীজ, সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করে থাকে। এছাড়া এই অঞ্চল চিনিকলের আওতাভুক্ত না থাকায় চাষিদের জন্য সরাসরি সরকারি প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই। তবে কৃষকরা আখ চাষের বিষয়ে কোনো পরামর্শ চাইলে তা অবশ্যই দেয়া হবে।



