সমুদ্র সৈকতের কিনারে ১০ একর সরকারি জমি দখল
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
কক্সবাজার শহরের সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ১০ একর সরকারি খাসজমি দখল করে টিন ও বাঁশের ঘেরাও দিয়েছে একটি চক্র।
শুক্রবার ও শনিবার রাতে দুই দফায় দখল করা হয় এস আলম গ্রুপের বাতিলকৃত প্লট নামে পরিচিত এই ১০ একর জমি। আর দখলদার সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতা হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলছেন না।
সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজারের কলাতলী এলাকার প্রধান সড়কের সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের পশ্চিম এবং সুগন্ধা পয়েন্ট সড়কের উত্তর পাশের জমি সৈকতের লাগোয়া ঝাউবাগান পর্যন্ত টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে।
কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক টিন ও বাঁশ দিয়ে জমিটি ঘেরাও শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে তড়িঘড়ি করে ঘেরাওয়ের কাজ শেষ করা হয়। তাদের সঙ্গে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দলও সেখানে অবস্থান করছিল।
ঘেরাওয়ের সময় ওই জমিতে দুই শতাধিক ভাসমান দোকান ছিল। শুক্রবার মধ্যরাতে দোকান সরিয়ে জায়গাটি ঘেরাও করার সময় কয়েকজন হকারের সঙ্গে শ্রমিকদের কথা-কাটাকাটি হয়। এ ঘটনায় শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত হকাররা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ টিনের বেড়ার একটি অংশ ভাঙচুর করে। শনিবার রাতে নতুন করে ওই জমিতে আবারও ঘেরা দেয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন প্রায় ১৩০ একর সরকারি খাসজমিতে হোটেল-মোটেল জোন গড়ে তোলা হয়। ওই জমিতে ৮৭টি প্লট তৈরি করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না করায় ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি সংসদীয় কমিটি এবং ভূমি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ৫৯টি প্লটের ইজারা বাতিল করেন। পরে ২০১৮ সালে এসব জমি সরকারি খাস খতিয়ানে লিপিবদ্ধ করা হয়।
গত বছর আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে ওবাইদুল হাসান ও সচ্চিদানন্দ সেনের দখলে থাকা ২ দশমিক ৩০ একর জমি উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করে জেলা প্রশাসন। পরে সেখানে সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। জমিটি এখনো জেলা প্রশাসনের আওতায় রয়েছে। এছাড়া এক মাস আগে রাজনৈতিক দলের নেতার নাম ব্যবহার করে নিলিমা রিসোর্টের পূর্বে হাড়ি রেস্টুরেন্টের দক্ষিণ পাশে প্রায় ৫০ শতক সরকারি জমি দখল হয়। তাও পরে উচ্ছেদ করা হয়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘বাতিল হওয়া এসব প্লটে নতুন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ বা ইজারা দেওয়া আইনগতভাবে বৈধ নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে উচ্ছেদ করা হবে।’
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেন সায়েম বলেন, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলের ঘটনায় জড়িত একজনকে ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই স্থানের মালিকানা বা ইজারার পক্ষে কোনো বৈধ নথি থাকলে তা জেলা প্রশাসক অথবা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর কাছে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়েছে।
তানভীর হোসেন সায়েম আরও বলেন, অবৈধ অবকাঠামো ও টিনের বেড়া অপসারণের জন্য করতে বলা হয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে স্থাপনা সরিয়ে নিতে রাজিও হয়েছিলেন। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ দখল বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এব্যাপারে জেলা প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।



