রিকশাচালকের ছেলে নাজমুলের সুইডেনে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে পাশে তারেক রহমান
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
রিকশাচালকের ছেলে মো. নাজমুল হাসান। মেধা, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি পেয়েছেন সুইডেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ। শতভাগ টিউশন ফি মওকুফসহ পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করলেও বিমানভাড়া, আবাসন ও প্রাথমিক জীবনযাপনের ব্যয় বহনের সামর্থ্য ছিল না তার পরিবারের। ফলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখন তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাজমুল হাসান। এ সময় সুইডেনে উচ্চশিক্ষার জন্য তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
নাজমুল হাসান বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খামারকান্দি গ্রামের রিকশাচালক মো. আয়নাল হকের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে রিকশা চালিয়ে দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ বহন করে আসছেন তার বাবা। পরিবারের ছোট ছেলে মো. আতিক হাসান এবার শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।
নাজমুল বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান (Biochemistry and Molecular Biology) বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স (থিসিস) শিক্ষার্থী। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি সুইডেনের University of Skövde-এ মাস্টার্স ইন বায়োসায়েন্সে ভর্তির সুযোগ পান নাজমুল। এ জন্য তিনি শতভাগ টিউশন ফি মওকুফসহ পূর্ণ বৃত্তি লাভ করেন। বৃত্তির আওতায় টিউশন ফি ও স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা থাকলেও বিমানভাড়া, বাসস্থান এবং প্রাথমিক জীবনযাপনের ব্যয় বহন করা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এতে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পেয়েও সুইডেনে যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
নাজমুল হাসান জানান, ছোটবেলা থেকেই তারেক রহমান তার আদর্শ। জিয়া পরিবারের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সুইডেনে পড়াশোনার জন্য শতভাগ স্কলারশিপ পেলেও সেখানে থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তার পরিবারের নেই। তার বাবা রিকশা চালিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি দুই ছেলের পড়াশোনার ব্যয় বহন করছেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার চেষ্টা করা হয়। পরে শেরপুরের ডা. মনজুর রশিদের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী চিকিৎসক ডা. এ.এন.এম. মনোয়ারুল কাদির বিটুর মাধ্যমে তার আবেদনপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। বিষয়টি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তার উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাজমুল বলেন, বাবাকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তার কথা শুনেছেন এবং তাকে দোয়া করেছেন। একই সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে দেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
নাজমুল বলেন, “এই কঠিন সময়ে তিনি পাশে না দাঁড়ালে হয়তো সুইডেনে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না। এই সহায়তা আমার কাছে শুধু আর্থিক সহযোগিতা নয়, এটি নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। আমি এই সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।”
নিজের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নাজমুল। তিনি ডা. এ.এন.এম. মনোয়ারুল কাদির বিটু, ডা. মনজুর রশিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আরিফ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুলসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুভূতি জানিয়ে নাজমুল বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনে একজন অনুপ্রেরণার মানুষ থাকেন। আমার রাজনৈতিক জীবনে তারেক রহমান সেই অনুপ্রেরণার নাম। তাকে সামনে থেকে দেখা এবং নিজের কথা বলার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে আমার কথা শুনেছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য উৎসাহ দিয়েছেন।
রিকশাচালকের পরিবারের সন্তান নাজমুল হাসানের সুইডেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ শুধু তার ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণের পথই খুলে দেয়নি, বরং তার পরিবারের দীর্ঘদিনের স্বপ্নকেও বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তায় এখন সুইডেনে উচ্চশিক্ষার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন নাজমুল। মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ভবিষ্যতে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।



