চট্টগ্রামে গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ বিক্ষুব্ধ চালকদের
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৭ এএম
চট্টগ্রামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। আজ (শুক্রবার) ভোরে নগরের ষোলশহর এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ দেখান কয়েকশ চালক।
অবরোধের কারণে মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেইট পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর পাশের ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাসের জন্য কয়েকশ সিএনজি অটোরিকশা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করছে।
চালকদের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষা করেও তারা গ্যাস পাচ্ছেন না। কখন গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষও কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না।
শাহিন নামে এক চালক বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ি চালাতে পারছি না। কখন গ্যাস পাব, সেটাও কেউ বলতে পারছে না। এভাবে দিনের পর দিন বসে থাকলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব?’
মনু মিয়াজি নামে এক চালক বলেন, ‘দুই দিন ধরে গাড়ি চালাতে পারিনি। কোনো আয় নেই অথচ গাড়ির জমা, সংসারের খরচ সবই দিতে হচ্ছে। গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও যদি গ্যাস না পাই, তাহলে আমরা কীভাবে বাঁচব?’
আরেক বিক্ষুব্ধ চালক মুজিবুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম শহরের সব ফিলিং স্টেশনে একই অবস্থা। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন। কর্তৃপক্ষ যদি সংকটের সমাধান করতে না পারে, তাহলে আমাদের রাস্তায় নামা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।’
ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সিএনজিতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরও কিছু করার নেই।’
চালকরা বলেন, গ্যাসের অভাবে শুধু তাদের আয় বন্ধ হয়নি, ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও। নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কমে গেছে এবং যাত্রীদেরও দুর্ভোগ বাড়ছে।
এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকেই মুরাদপুর, ষোলশহর ও দুই নম্বর গেইট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ চালকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করছে। তবে গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়তে রাজি নন বিক্ষুব্ধ চালকরা।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহেদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম রয়েছে। চালকদের সরানোর চেষ্টা চলছে।



