তালা দিয়ে দুই শিশুকে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ, ৯৯৯-এ ফোনে পুলিশ এসে উদ্ধার
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি বাড়িতে তালা লাগিয়ে দেওয়ায় দুই শিশু ঘরে আটকা পড়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে তাদের উদ্ধার করে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে ছোনকা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের (৪৫) বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মো. আমির হোসেন (৭৫), তার স্ত্রী ও ছেলে মো. সবুজ হোসেন ওই বাড়িতে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় বাড়ির ভেতরে রফিকুল ইসলামের দুই সন্তান—চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাব্বী (১১) ও দশম শ্রেণির এক ছাত্রী—আটকা পড়ে যায়। বিষয়টি জানতে পেরে তাদের মা মোছা. মেরিনা বেগম মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন।
মেরিনা বেগম জানান, সন্তানরা যেন ভয় না পায়, সে জন্য তিনি ছোনকা বাজারের দিক থেকে বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ওই দরজাটিও আটকে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির তালা খুলে দেয়।
মেরিনা বেগমের অভিযোগ, এ সময় মো. সবুজ আহম্মেদ কাফনের কাপড় কিনে তা শুকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং রফিকুল ইসলাম বাড়িতে এলে তাকে জবাই করে হত্যার হুমকি দেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্যও নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মো. আমির হোসেন বলেন, “আমার জমি, আমার বাড়িতে আমি তালা লাগিয়েছি। তালা আমি খুলব না।” পরে শেরপুর থানার এসআই রাকিবুল থানায় বসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে তিনি তালা খুলে দেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বাড়ির মালিকানা ও পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম জানান, তারা প্রথমে একটি দোকানে ব্যবসা করতেন। পরবর্তীতে আরও একটি দোকান কেনার সময় চার ভাইয়ের নামে দুটি দোকান ক্রয় করা হয়। পরে তার ভাই সোহেলের চাকরির জন্য ১২ লাখ টাকা খরচ করা হলে সোহেল তার অংশ রফিকুল ইসলামের নামে লিখে দেন। এ নিয়েই বর্তমানে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে শিশুদের ঘরে আটকে রাখা এবং হত্যার হুমকির অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত দুই শিশুকে ঘর থেকে বের করে আনা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।



