করিমগঞ্জে ইউপি সদস্যের মৃত্যু, জানাজায় স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কিরাটন ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. খুর্শিদ মিয়া (৬০) মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জোহরের নামাজের পর কিরাটন ইউনিয়নের লাখপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় এলাকাবাসী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে লাখপুর আজমির বাজার কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে সোমবার রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মো. খুর্শিদ মিয়া করিমগঞ্জ উপজেলার কিরাটন ইউনিয়নের লাখপুর গাংপাড়া এলাকার মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ছয় ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই মাস ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন খুর্শিদ মিয়া। সম্প্রতি তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে তাঁকে প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, খুর্শিদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সহজ-সরল, সদালাপী ও মানুষের প্রতি আন্তরিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এলাকার মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিপদে-আপদে পাশে থাকায় স্থানীয়দের কাছে তাঁর আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছিল।
নিহতের ভাতিজা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আজিম রঞ্জু বলেন, “চাচা প্রায় দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর চিকিৎসা চলছিল। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারের সবাই গভীরভাবে শোকাহত।”
দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ হানিফ বলেন, “খুর্শিদ মিয়া একজন সৎ, সহজ-সরল ও দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি ছিলেন। মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় পাশে থাকতেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন ভালো মানুষ ও সহকর্মীকে হারালাম। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দিন।”
কিরাটন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিক বলেন, “খুর্শিদ মিয়া আমাদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একজন সম্মানিত ইউপি সদস্য ছিলেন। প্রায় সাড়ে চার বছর তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোনো কাজ হাতে নিলে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তা সম্পন্ন না করে তিনি কখনো পিছপা হতেন না। অত্যন্ত সহজ-সরল ও সাধারণ জীবনযাপনের মানুষ হিসেবে তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও প্রিয় ছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ মাত্রই ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। দায়িত্ব পালনকালে তাঁর কোনো কথা বা আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তাঁর পক্ষ থেকে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। সবাই যেন তাঁকে ক্ষমা করে দেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করেন।”
জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন খুর্শিদ মিয়া। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যরা মরহুম মো. খুর্শিদ মিয়ার আত্মার মাগফিরাতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।



