Logo
Logo
×

সারাদেশ

সার কারখানায় উৎপাদন সংকট, আমন সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

Icon

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

সার কারখানায় উৎপাদন সংকট, আমন সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

আমন মৌসুম সামনে রেখে চট্টগ্রামের চারটি সার কারখানার মধ্যে তিনটিতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সার সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গ্যাস সংকটে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) পাঁচ মাস ধরে বন্ধ, কাঁচামালের অভাবে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (ডিএপিএফসিএল) এক মাসের বেশি সময় ধরে উৎপাদন নেই। একই কারণে গ্যাস সরবরাহ সীমিত হওয়ায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। যদিও সরকার বলছে, বর্তমানে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকায় তাৎক্ষণিক সংকটের আশঙ্কা নেই।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন চট্টগ্রামের চারটি সার কারখানার মধ্যে শুধু টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডে উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। বাকি তিন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আনোয়ারায় অবস্থিত সিইউএফএল গত ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে গ্যাস সরবরাহের অনিয়ম ও যান্ত্রিক ত্রুটিতেও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। কারখানার প্রধান রসায়নবিদ উত্তম চৌধুরী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদিত হয়েছে। নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন দেড় লাখ টনের কাছাকাছি হতে পারত।

অন্যদিকে, দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিএপিএফসিএলে গত ২৮ জুন থেকে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিড আমদানিতে বিলম্ব হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় কাঁচামাল সময়মতো দেশে পৌঁছায়নি। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক বলেন, কাঁচামাল পেলেই দ্রুত উৎপাদন পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কাফকোতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চিফ পার্সোনেল আবদুল্লাহ ফারুক জানান, উৎপাদন চালু থাকলেও গ্যাস ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় কারখানাটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

এদিকে উপকূলীয় চট্টগ্রামে লবণাক্ততার কারণে বোরো আবাদ কমে যাওয়ায় এবার আমন চাষের ওপর কৃষকদের নির্ভরতা আরও বেড়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি ও এমওপি—সব ধরনের রাসায়নিক সারের চাহিদাও উল্লেখযোগ্য।

মাঠপর্যায়ের কৃষকদের আশঙ্কা, বর্তমানে গুদামে পর্যাপ্ত সার থাকলেও উৎপাদন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। সময়মতো সার না পেলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের ব্যয়ও বাড়তে পারে। তাদের দাবি, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সার মজুত এবং বিতরণব্যবস্থা নিয়মিত তদারকি করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয়।

তবে সরকার সার সংকটের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে। কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক আছে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক আপ্রু মারমা। তিনি বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রামে যে পরিমাণ রাসায়নিক সার মজুত রয়েছে, তা দিয়ে অন্তত তিন মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তাই আপাতত সার সংকটের কোনো কারণ নেই। তবে উৎপাদনকারী কারখানাগুলো দ্রুত চালু হলে ভবিষ্যতের সরবরাহ আরও নিরাপদ হবে।

এটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতার উপযোগী ভাষা ও কাঠামো অনুসরণ করে লেখা হয়েছে, যেখানে শুরুতেই মূল সংকট, পরে কারণ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং শেষে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন