টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত ভারসাম্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তায় পরবর্তী নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষিত এলাকার অভ্যন্তরে সকল প্রকার হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ এবং চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণাসহ ১১ জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত ভারসাম্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সকল হাউসবোট, নৌযানের মালিক, পরিচালনাকারী, ট্যুর অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পরবর্তী নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএ ঘোষিত এলাকার অভ্যন্তরে সকল প্রকার হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ এবং চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।
এছড়াও যেসব নির্দেশনা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে-
২. হাউসবোট, নৌযানগুলোতে পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে এবং এর প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। ট্যুর শুরুর আগেই আচরণবিধি পর্যটকদের কাছে উপস্থাপন করবে।
৩. হাউসবোট, নৌযানে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক বাজানো ও কোন পার্টি আয়োজন করা যাবে না। এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
৪. হাউসবোট, নৌযানে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। প্রতিটি হাউসবোট, নৌযানে নিরাপদ পানীয় জলের জন্য পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার রাখতে হবে।
৫. সকল হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ (একশত) ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
৬. জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বরসমূহ (জেলা, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল ইত্যাদি) পর্যটকদের অবহিত করতে হবে এবং দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।
৭. প্রতিটি হাউসবোট, নৌযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্র সংরক্ষণ করতে হবে এবং গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিটি হাউসবোট, নৌযানে বাধ্যতামূলকভাবে সেপ্টিক ট্যাংক স্থাপন করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য কমপক্ষে দুটি ডাস্টবিন রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের বর্জ্য হাওর বা জলাশয়ে ফেলা যাবে না।
৯. হাউসবোট, নৌযানের মালিক ও ট্যুর অপারেটর প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
১০. দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। আকস্মিক ঝড়, প্রবল বৃষ্টিপাত বা বজ্রপাতের আশংকাকালীন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
১১. এছাড়া আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তালিকাভুক্তি ও নিবন্ধনের জন্য আবেদন দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে সংশ্লিষ্ট হাউসবোট, নৌযান, ট্যুর অপারেটরকে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদান করা হবে না এবং প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



