ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, শিক্ষক সংকটে বিপাকে আমজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের আমজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে পাঠদান। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির পাকা ভবন নির্মিত হয় ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে। প্রায় তিন দশক আগে নির্মিত ভবনটি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়া এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ঝুঁকির কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ে ছয়টি শ্রেণির জন্য চার থেকে পাঁচজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন—ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সাদিয়া আক্তার। তাঁকে সহায়তার জন্য পার্শ্ববর্তী একটি বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষিকাকে অস্থায়ীভাবে (ডেপুটেশনে) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে দাপ্তরিক কাজে প্রায়ই উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হওয়ায় তিনি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে থাকতে পারেন না।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সাদিয়া আক্তার বলেন, গত তিন বছর ধরে একাই প্রায় ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর ছয়টি শ্রেণির পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছি। এক কক্ষে ক্লাস নিলে অন্য কক্ষগুলো শিক্ষকশূন্য থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি একটি বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে এক শিক্ষার্থী ও একজন অভিভাবক আহত হন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তারা সুস্থ হয়েছেন। এরপর থেকে অনেক অভিভাবক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস না নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী জলুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সেলিনা আক্তার নামে একজন শিক্ষিকাকে ডেপুটেশনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসাইন বলেন, “আমজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ—এ বিষয়ে আমরা অবগত। ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় বিদ্যালয়ের জন্য বিকল্প স্থাপনা নির্মাণে ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে উপজেলা কমিটির মাধ্যমে ভবনটি দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিকল্প স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা, নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা হোক।



