Logo
Logo
×

সারাদেশ

শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পে-অর্ডার অবমুক্তে অনিয়মের অভিযোগ, ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের দাবি

Icon

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম

শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পে-অর্ডার অবমুক্তে অনিয়মের অভিযোগ, ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের দাবি

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি জমির নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ার সুযোগে ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকার পে-অর্ডার অবমুক্তে অনিয়ম এবং ২০ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে। অভিযোগে দলিল লেখকের সহকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার, সংশ্লিষ্ট নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর শেরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩২৮ শতক জমির নিবন্ধনের জন্য ক্রেতা মাহমুদুল হাসান ও বিক্রেতা সামসুজ্জোহা উপস্থিত হন। জমির মূল্য বাবদ সোনালী ব্যাংক শেরপুর শাখার মাধ্যমে আটটি পে-অর্ডারে মোট ৪২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়। তবে আইনি জটিলতার কারণে সেদিন জমির নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়ায় পে-অর্ডারগুলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত রাখা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিচারাধীন অবস্থায় চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সাব-রেজিস্ট্রারের অনুমতিক্রমে ৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার একটি পে-অর্ডার অবমুক্ত করে অর্থ উত্তোলন করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ক্রেতার আমমোক্তার মো. নূর আলম শাকিল অবশিষ্ট পে-অর্ডারগুলো নগদায়ন বন্ধ রাখতে সাব-রেজিস্ট্রার ও সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেন।

কিন্তু সেই আবেদন উপেক্ষা করে গত ৭ মে আরও প্রায় ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকার দ্বিতীয় একটি পে-অর্ডার অবমুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখকের সহকারী এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মোট ২০ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে জমির ক্রেতা মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করেন, জমির দলিলে তার স্ত্রী মোছা. সাদেকা খানমের নাম পরিবর্তন করে জালিয়াতির মাধ্যমে তানিয়া আক্তার নামে এক অপরিচিত নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

সোনালী ব্যাংক শেরপুর শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুবুল আলম বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার পে-অর্ডার দুটি অবমুক্ত করায় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। তবে পরবর্তী দুটি পে-অর্ডার ভাঙানোর চেষ্টা করা হলেও আমরা তা স্থগিত রেখেছি।

অভিযুক্ত দলিল লেখকের সহকারী সামছু হোসেন আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, উত্তোলিত অর্থ তানিয়া আক্তার ও আমমোক্তার নূর আলম শাকিলের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার নাঈমা সিদ্দিকা বলেন, আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত নই। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

অন্যদিকে জমির ক্রেতার স্ত্রী মোছা. সাদেকা খানম অভিযোগ করেন, গত ২২ জুলাই তদন্তের নামে তাদের দপ্তরে ডেকে হেনস্তা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সাব-রেজিস্ট্রার, দলিল লেখকের সহকারী সামছু হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে দাবি করেন।

তবে শেরপুর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, এ বিষয়ে উভয় পক্ষ থানায় এসে মৌখিক অভিযোগ করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন