শেরপুরে পূর্বশত্রুতার জেরে আমন ক্ষেতে বিষ ছিটিয়ে ফসল নষ্ট, থানায় লিখিত অভিযোগ
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৬ পিএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে একটি রোপণ করা আমন ধানখেতে ঘাসনাশক (বিষ) ছিটিয়ে ফসল ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২৫ শতক জমির উঠতি আমন ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক আবুল হোসেনের পরিবার। এ ঘটনায় বুধবার (২২ জুলাই) শেরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের পানিসাড়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে আবুল হোসেনের সঙ্গে একই মৌজার একটি জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ১৯ জুলাই ভোর সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিপক্ষরা তাঁর আমন ধানখেতে ঘাসনাশক বিষ ছিটিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে শাহবন্দেগী ইউনিয়নের উচরং গ্রামের লিটন (৩৮), মাকেজ উদ্দিন (৫০) ও আনজুয়ারা বেগম (৪৫)-সহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিষ ছিটানোর সময় তারা বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার করলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরদিন থেকেই ধানগাছগুলো হলুদ হয়ে শুকিয়ে যেতে শুরু করে। কয়েক দিনের মধ্যে পুরো ২৫ শতক জমির আমন ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
কৃষক আবুল হোসেন বলেন, আমরা প্রায় ৬১ বছর ধরে জমিটি ভোগদখল করে চাষাবাদ করে আসছি। প্রতিপক্ষরা জমিটির মালিকানা দাবি করলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু আদালতের রায়ের অপেক্ষা না করে শত্রুতাবশত বিষ ছিটিয়ে ফসল নষ্ট করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানিসাড়া মৌজার সাবেক ১০৭৩ ও ১০৮৭ দাগের মোট ১৩২ শতক জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে বগুড়া জেলা আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে ফসল নষ্টের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ধরনের প্রতিহিংসামূলক কর্মকাণ্ড কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত লিটন, মাকেজ উদ্দিন ও আনজুয়ারা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনউদ্দীন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



