রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদ
রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে ট্রেনের টিকিট পরীক্ষক (টিটি) মারধরে অভিযোগে চার দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানান তারা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম ফুরকান উদ্দিন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের র্শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে দায়িত্বপ্রাপ্ত টিকিট পরীক্ষক (টিটি) বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে টিকিট ইস্যু না করে ভ্রমণের সুযোগ দিচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত চশমাও ভেঙে যায়।
ফুরকান উদ্দিন বলেন, রেলের অর্থ রাষ্ট্রের সম্পদ। টিকিট ইস্যু না করে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি দেখে একজন সচেতন নাগরিক ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। এর জের ধরে আমাকে অতর্কিতভাবে মারধর করা হয়। আমি আহত হয়েছি এবং আমার চশমা ভেঙে গেছে।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চারটি দাবি জানিয়েছেন। সেগুলো হলো- টিটিইকে উপস্থিত করতে হবে; ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করতে হবে এবং শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রেল কর্তৃপক্ষকে বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে; ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং সব দূরপাল্লার ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করতে হবে।
এদিকে, শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। আন্দোলনস্থলে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ আন্দোলনকে সমর্থন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘রেললাইন বন্ধ থাকবে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট লোকেরা নিজে আমাদের কাছে এসে এখন এটা সামলান। কাদের গায়ে হাত দিয়েছেন, ঠাহর তো করতে হবে। পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটির মাধ্যমে রাবির ১৯-২০ সেশনের এক শিক্ষার্থী ভাইকে অন্যায়ভাবে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে রেললাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্টেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের কাছে এসে এ ব্যাপারে সমাধান করবে। নচেৎ রাজশাহীর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দেখতে চাই।’
তিনি আরও লেখেন, ‘এর আগেও জানা-অজানা এমন অনেক আচরণ রাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করা হয়েছে। আজকে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর দিকে কখনো রেল গুন্ডারা বাঁকা চোখেও যেন না দেখে সে ব্যবস্থা করতে হবে।’
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। রেলে অনিয়ম ও প্রতিবাদকারীদের হেনস্তার ঘটনা নতুন নয়। ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের তদন্ত, মারধরের ক্ষতিপূরণ এবং যথাযথ বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রেলপথ অবরোধ অব্যাহত থাকবে।’
ঘটনার বিষয়ে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।



