দুর্গাপুরে ডিবি পরিচয়ে বাড়িতে লুট, গ্রেপ্তার ৩
নেত্রকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় গভীর রাতে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিচয় দিয়ে একটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান কাপড়চোপড় লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের এক ভাতিজাকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার রাজ কুমার (২৬), জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার দিঘিরচর মুল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল হামিদ (৪৫) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ছরনাল গ্রামের শাহীন আলম (৩৮)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ওয়াদুদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
রাতের খাবার শেষে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি দরজায় কড়া নেড়ে নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। তারা গৃহকর্তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা ও জাল টাকার কারবারের অভিযোগ তুলে ভয়ভীতি দেখান। পরে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে ঘরের বিভিন্ন কক্ষ তল্লাশির নামে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর ছেলে পাভেল মিয়া বলেন, ডাকাতরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঘরে ঢোকে। পরে তাকে ও তার বাবাকে বেঁধে ফেলে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের আটকে রেখে ঘরের মালামাল নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী নূর জাহান বেগমের দাবি, ডাকাতদের সঙ্গে তার দেবরের ছেলে জড়িত ছিল। স্থানীয় কয়েকজন তাকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখতে পেয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ লুট হওয়া একটি মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে কলমাকান্দা উপজেলার সিধলী এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তবে অন্য কয়েকজন পালিয়ে যায়।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ভুক্তভোগী পরিবারের এক ভাতিজা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে তিনি ভাড়ায় ডাকাতদের নিয়ে আসেন। ওই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।



