শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগে মামলা, গ্রেপ্তার ২
শামীম মিয়া, নরসিংদী
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
নরসিংদীর মাধবদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে চাচি লতা বেগমকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রধান অভিযুক্ত শিশুটির বড় চাচি লতা বেগম বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
ঘটনাটি মাধবদী থানাধীন আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে ঘটে। ভুক্তভোগী তিন মাস বয়সী শিশু রিজিক ওই গ্রামের জহির মিয়া ও সাইফা আক্তার দম্পতির সন্তান। অভিযুক্ত লতা বেগম শিশুটির বড় চাচি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে মাধবদী থানায় মামলাটি দায়ের করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার রিজা আক্তার। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউসার আহমেদ এবং তার বাবা আলমাস মিয়া।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জন্মের পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগায় শিশু রিজিক প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। যৌথ পরিবারে বসবাসকারী জহির মিয়া ও তার বড় ভাই কাউসার আহমেদের পরিবারের মধ্যে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক মনোমালিন্য চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির অসুস্থতার কারণে মা সাইফা আক্তার সংসারের কাজে নিয়মিত অংশ নিতে না পারায় তাকে বিভিন্ন সময় কটূক্তি করতেন লতা বেগম।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল প্রায় ৩টার দিকে সাইফা আক্তার শিশুকে নিয়ে নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলেন। ওয়াশরুমে যাওয়ার আগে তিনি সন্দেহবশত মোবাইল ফোনে ভিডিও রেকর্ডিং চালু রেখে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, তার অনুপস্থিতির সুযোগে লতা বেগম কক্ষে প্রবেশ করে শিশুটির পা মুচড়ে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার পর কাউসার আহমেদ ও আলমাস মিয়া বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং অভিযুক্ত লতা বেগমকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। একই সঙ্গে সাইফা আক্তারের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওটি মুছে ফেলেন। তবে তার আগেই ভিডিওটি তিনি প্রবাসে থাকা ভাই ইব্রাহিমের কাছে পাঠিয়ে রেখেছিলেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, শিশুটির পায়ের এক্স-রে পরীক্ষায় কোনো ভাঙন বা আঘাতের আলামত পাওয়া যায়নি। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ রয়েছে। তবে জন্মগত কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্ত লতা বেগমকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শিশুটির বাবা-মা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতে আগ্রহী ছিলেন না। তবে শিশুর প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের নরসিংদীর আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত আগামী রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এ ঘটনায় একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও মুছে ফেলে আলামত নষ্ট ও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে লতা বেগমের স্বামী কাউসার আহমেদ ও তার বাবা আলমাস মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার করা হয়।



