নরসিংদীতে দুই মাসের শিশুকে নির্যাতন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
নরসিংদীর মাধবদীতে দুই মাস বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চাচির বিরুদ্ধে। পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শিশুর বাবা কাউসার।
মঙ্গলাবার (১৪ জুলাই) ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আর এ ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামে।
ভুক্তভোগী শিশুটি সদর উপজেলার মাধবদী থানার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকারদী গ্রামের সায়েবা বেগম ও কাউসার মিয়া দম্পতির সন্তান।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, জন্মের পর থেকেই শিশুটি প্রায়ই অস্বাভাবিকভাবে কান্না করত। এতে শিশুটির মা সায়েবা বেগমের সন্দেহ হয়। কেউ কি তার অনুপস্থিতির সুযোগে শিশুটিকে নির্যাতন করছে, এমন সন্দেহের ভিত্তিতে সম্প্রতি শিশুটির মা ঘরের ভেতরে গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের ব্যবস্থা করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শিশুটির চাচি রত্না বেগম ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত শিশুর একটি পা জোরে মুচড়ে দিয়ে দৌড়ে চলে যায়। পরে শিশুটির মা কান্না শুনে দৌড়ে এসে দেখেন অস্বাভাবিকভাবে শিশুটা কান্না করছেন।
শিশুর বাবা কাউসার মিয়া বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে আমার শিশু সন্তানকে আমার বড় ভাই এর স্ত্রী রত্না বেগম অগোচরে নির্যাতন করতো। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমার স্ত্রী ঘরের ভিতর একটি মোবাইল ফোনে ভিডিও অন করে রেখে চলে যায়। শিশুটি কান্না শুরু করলে দৌড়ে এসে ভিডিওতে দেখেন, আমার ভাইয়ের স্ত্রী রত্না বেগম আমার শিশুটির একটি পায়ে সজোরে মুচড়ে দেন। তবে আমার সন্তানের পা ভাঙেনি। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে বসে সমাধান করা হয়েছে। তবে শিশুর পা ভাঙার ভিডিওটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
মাধবদী থানার ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি জানার পর আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং ঘটনা সম্পর্কে জানতে শিশুর মা ও বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, শিশুটির পা ভাঙ্গেনি। তবে পারিবারিক কলহের জেরে শিশুটিকে নির্যাতন করা হতো।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের অভিযোগে ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



