শেরপুরে গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা: সংস্কারের দাবিতে সড়কের উপর ধানের চারা রোপন
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
বগুড়ার শেরপুরে একটি গ্রামীণ সড়কের উপর ধানের চারা রোপন করে এক অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ দেশ স্বাধীনের দীর্ঘ ৫৫ বছর গত হলেও এই সড়কে হয়নি কোন উন্নয়ন কাজ, প্রতিবাদে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন তাঁরা।
সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টায় উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের আড়ংশাইল গ্রামের একটি কাঁচা সড়কের উপর ধানের চারা রোপন করে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীন এই সড়কের এক কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বহুদিন পূর্বে সড়কের প্রবেশপথে সামান্য অংশে ইটের সলিং করেছিল। কিন্তু সেগুলো উঠে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই পুরো সড়কই জল কাঁদায় একাকার হয়ে যায়। এতে করে দুটি গ্রামের প্রায় ৪০০ পরিবারের মানুষ চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের উপরে বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে কাদা। এ কারনে অসম্ভব হয়ে পরেছে পায়ে হেঁটে চলাচল করা। এছাড়াও ওই এলাকার রিকশা ভ্যান চালকেরা বেকার হয়ে পড়ায় দূর্বীসহ জীবনযাপন করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা প্রতিটি নির্বাচনের আগে রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর আর কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে এলাকার মানুষ একই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এলাকাবাসী জানান, এই রাস্তা দিয়ে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে তাদের স্কুলে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন পাওয়া যায় না। কৃষকদের ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়া গুনতে হয়। অনেকে ক্ষোভে রাস্তার উপর ধানের চারা লাগিয়েছে। রাস্তা খারাপের জন্য গ্রামের ছেলে মেয়েদের বিয়ে দিতে কষ্ট হয়।এমনকি কোনো ব্যক্তি মারা গেলে জানাজা ও দাফন কার্যক্রম পরিচালনাতেও চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, “পুকুর থেকে মাটি কাটার সময় রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তাটি পাকা করার জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি কমলে আপাতত রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে দ্রুত রাস্তাটি টেকসইভাবে পাকা করা হোক, যাতে বছরের পর বছর ধরে চলমান দুর্ভোগ থেকে তারা স্থায়ীভাবে মুক্তি পান।



