৫০০ বছরের প্রাচীন খেরুয়া মসজিদের প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতা
নজরুল ইসলাম জাকি, শেরপুর
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
পূর্বের সরকারের উন্নয়নের নানা দাবির বিপরীতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের হামছাপুর মধ্যপাড়ায় অবস্থিত প্রায় ৫০০ বছরের পুরাতন মুঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী খেরুয়া মসজিদে যাতায়াতের সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। কোথাও কোথাও জমে থাকা পানির গভীরতা এতটাই বেশি যে, পথচারীদের উরু পর্যন্ত পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্বরোড থেকে টোলারগেট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে পুরো সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে।
প্রায় ২০০ মিটার এগিয়ে দক্ষিণ পাশে অবস্থিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক খেরুয়া মসজিদে যাওয়ার পথের অবস্থা আরও ভয়াবহ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদের সামনের সড়কের সলিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকায় কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত—তা বোঝার উপায় নেই। এমনকি রাস্তার ওপর জমে থাকা পানিতে স্থানীয় শিশুদের মাছ ধরতেও দেখা গেছে।
এদিকে অটোরিকশা, অটোভ্যান, মোটরসাইকেলসহ ছোট-বড় সব ধরনের যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে পানি অতিক্রম করছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৫০০ পরিবারের বসবাস এই এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় তাদের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মসজিদে নামাজ আদায়, বাজারে যাওয়া, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া, এমনকি শিশুদের স্কুলে পাঠাতেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঐতিহাসিক এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনায় আগত দর্শনার্থীরাও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি এখানে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ছয়-সাত মাস হয়েছে। দায়িত্বে আসার পর থেকেই সড়কটির বেহাল অবস্থা দেখছি। গত ১০-১২ দিন ধরে রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই।”
স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহাসিক খেরুয়া মসজিদের গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমজুড়ে দুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।



