শেরপুরে পানির তীব্র স্রোতে বিলীন ৮-১০ বিঘা ফসলি জমি
নজরুল ইসলাম জাকি, শেরপুর
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় বিশ্বরোডের নিচ দিয়ে প্রবাহিত ড্রেনের পানির তীব্র স্রোতে খালের কাঁচা অংশে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী প্রায় ৮ থেকে ১০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙনের কারণে কয়েকটি বসতবাড়িও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্বরোডের নিচ দিয়ে একটি সাঁকো ও ড্রেনের মাধ্যমে মির্জাপুর বাজার, রাজাপুর, দড়ি মুকুন্দসহ বৃহৎ এলাকার পানি করতোয়া নদীতে গিয়ে পড়ে। বিশ্বরোড থেকে প্রায় ১০০ মিটার পর্যন্ত খালটি কংক্রিটে নির্মিত হলেও পরবর্তী অংশ কাঁচা থাকায় প্রবল স্রোতের আঘাতে বিভিন্ন স্থানে খালের পাড় ধসে পড়ছে। এর ফলে আশপাশের ফসলি জমি একের পর এক নদীতে বিলীন হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আসমত, নগেন, আলাউদ্দিন, বাবলু, মোস্তফাসহ একাধিক কৃষকের জমি ভেঙে গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ বিঘা জমির ক্ষতি হয়েছে। তারা জানান, করতোয়া নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রতি শতক জমির বাজারমূল্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং বিশ্বরোড সংলগ্ন জমির মূল্য প্রতি শতক প্রায় ৩ লাখ টাকা। ফলে জমি হারিয়ে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষক মো. মিন্টু বলেন, “বিশ্বরোডের পশ্চিম পাশের প্রায় সব এলাকার পানি এই ড্রেন দিয়েই করতোয়া নদীতে যায়। পানির প্রচণ্ড স্রোতে প্রতিনিয়ত জমি ভেঙে যাচ্ছে। এখন শুধু ফসলি জমিই নয়, আশপাশের বসতবাড়িও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে।”
এ বিষয়ে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “তীব্র স্রোতের কারণে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন সেখানে কাজ করছে। পাশাপাশি ফসলি জমি ভাঙনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



