১৩ বছর পর রায়: ডিএনএ টেস্টে মিলল পিতৃপরিচয়, ধর্ষকের যাবজ্জীবন
নেত্রকোণা প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
নেত্রকোণায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীকে ধর্ষণের মামলায় দীর্ঘ ১৩ বছর পর যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যা শিশুকে অভিযুক্তের বৈধ সন্তান ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার তথ্য তুলে ধরে ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. নুরুল কবীর (রুবেল) জানান, ২০১৩ সালের ১০ জুলাই বারহাট্টা থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত অভিযুক্ত হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
তিনি জানান, ভুক্তভোগী খুববানু ছিলেন স্বামী পরিত্যক্তা ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী। প্রতারণার মাধ্যমে অভিযুক্ত হেলাল তাকে ধর্ষণ করলে তিনি গর্ভবতী হন। গর্ভাবস্থার ছয় মাসের সময় মামলাটি দায়ের করা হয়। পরে ভুক্তভোগী স্বাভাবিকভাবে মারা যান।
মায়ের মৃত্যুর পর ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুটি দীর্ঘদিন পিতৃপরিচয় থেকে বঞ্চিত ছিল। অভিযুক্ত শুরু থেকেই শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে অস্বীকার করে আসছিল। পরে আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়, শিশুটি হেলালেরই জৈবিক সন্তান। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত শিশুটিকে অভিযুক্তের বৈধ সন্তান এবং তার সম্পত্তির আইনগত উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেন।
বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া কলি আক্তার (১৩) জানায়, বাবার পরিচয় পাওয়ার জন্য সে ও তার স্বজনরা দীর্ঘ ১৩ বছর আদালত, আইনজীবী ও পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। অবশেষে আদালতের রায়ে পিতৃপরিচয় পাওয়ায় সে সন্তোষ প্রকাশ করে।
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বোন বলেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। আদালতের এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট।
রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের মতে, এ রায় শুধু একজন শিশুর পিতৃপরিচয়ই নিশ্চিত করেনি, তার আইনগত অধিকারও প্রতিষ্ঠা করেছে।



