Logo
Logo
×

সারাদেশ

২৪ ঘণ্টায় ২০৬ মিলি বৃষ্টি, চসিক মেয়র-চউক চেয়ারম্যানের ঘুম হারাম

Icon

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

২৪ ঘণ্টায় ২০৬ মিলি বৃষ্টি, চসিক মেয়র-চউক চেয়ারম্যানের ঘুম হারাম

চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ২০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টি টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত নগরীর জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকাগুলোতে দফায়-দফায় পরিদর্শন করেছেন তারা।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ২০৬ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময়ে নগরীর বেশ কয়েকটি স্থানে অল্প সময়ের জন্য পানি জমলেও কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। রোববার ভোর থেকে বৃষ্টি শুরুর পর নগরীতে জলাবদ্ধতা তৈরি না হওয়ার পেছনে চসিক ও চউক কর্মকর্তাদের তৎপরতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন নগরবাসী।

এদিকে আবহাওয়া অফিস থেকে পাহাড় ধসের আশঙ্কা জানানোর পর রোববার রাত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের কেউ নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে যায়নি।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বশির আহম্মেদ হাওলাদার যুগান্তরকে বলেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড ও তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা এলাকায় অবস্থানকারী মৌসুমি স্থল নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। ভারি বৃষ্টির ফলে চট্টগ্রামে পাহাড় ধস ও ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

নগরীর জলাবদ্ধতা প্রবণ এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্ত রাখতে আমাদের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখার সুফল এখন মিলছে। এ অর্জন ধরে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ঢাকা থেকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নগরীর জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি চলাচল তদারকি করেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন।

সোমবার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, টানা বৃষ্টিতে নগরীর কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকার দুয়েকটি স্থানে এবং প্রবর্তক মোড়ের একাংশে পানি জমেছিল। পরে ওই এলাকাগুলোর নালায় জমে থাকা আবর্জনা সরিয়ে দিলে পানি নেমে যায়। এছাড়া বিকালের পর ভারি বৃষ্টিতে নগরীর এনায়েত বাজার, চকবাজারসহ আশপাশের এলাকায় পানি জমে যায়। এ সময় হাঁটু পানি মাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে চলাচল করতে দেখা যায়।

পাহাড় ধসের আশঙ্কায় মাইকিং

রোববার রাতে এবং সোমবার সকাল থেকে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরতদের সরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নগরীর সব আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ের আশপাশের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাগুলোকেও আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মাইকিং থেকে শুরু করে মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। নগরের আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড় থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। মানুষের জানমাল রক্ষার্থে ৬ জন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের কয়েকটি টিম কাজ করছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন