রোহিঙ্গাদের জন্য জাইকার সহায়তা অব্যাহত থাকবে: প্রেসিডেন্ট
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। সফরকালে তারা রোহিঙ্গাদের মানবিক পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিনিধিদল উখিয়ার মধুরছড়া ৪ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। পরে কুতুপালং নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পের ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি), সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট, মানবিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উল্লেখ করেছেন, জাইকার এ সফর বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। তার ভাষ্য, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক (এফডিএমএন) এবং স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা ও টেকসই উন্নয়নে জাইকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১২ সাল থেকে জাইকা কক্সবাজারে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, জীবিকা, মৎস্য, পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) এবং নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় আরআরআরসিকে কারিগরি সহায়তা, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
মতবিনিময় সভায় রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা, সেবার মানোন্নয়ন, দুর্যোগ-সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদল চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে।
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, জাইকার অব্যাহত সহযোগিতা মানবিক কার্যক্রমের সমন্বয় আরও জোরদার করবে এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আরও সহনশীল, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।



