অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই খাল খনন, স্থানীয়দের ক্ষোভ
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ এএম
কুমিল্লার লালমাইয়ে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অবৈধ ৩৩টি দোকান বা স্থাপনা রেখেই খাল খননের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের দরবেশপাড়া বাজারে খালের জমি পুনরুদ্ধার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খালের উত্তর-পূর্ব পাড়ের বাসিন্দারা।
তাদের অভিযোগ, দরবেশপাড়া বাজারের উত্তর পাশে একাধিক বাড়িঘর উচ্ছেদ করে খাল খনন করলেও বাজারে এসে খালের উপর দাঁড়িয়ে থাকা ৩৩টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়নি৷ এটি খাল খনন নয়, শুধুমাত্র ময়লা পরিষ্কার করা হয়েছে। দরবেশপাড়া বাজার অংশে খালটি দ্রুত দখলমুক্ত করে কার্যকর খননের দাবি এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে গত পাঁচ মাস আগে পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের দোশারীচোঁ থেকে ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি খনন কাজের উদ্বোধন করেছিলেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন এবং কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। সেদিন মন্ত্রী-এমপিরা খালের উপর গড়ে উঠা সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়ে গেলেও কার্যত দরবেশপাড়া বাজার অংশে স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই খনন কাজ চালায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি)।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দরবেশপাড়া বাজারে খালের উপর ৩৩টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই দায়সারাভাবে খনন কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খালের প্রস্থ বা চওড়া কমপক্ষে ৩০ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও বাজার অংশে এসে কোথাও ১০ ফুট, কোথাওবা ১৫ ফুট কাটা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, প্রতি দোকান থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়ে ছোট ভেকু এনে খালের উপর অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকানগুলো অক্ষত রেখে সুকৌশলে কাটা হয় মাটি। ফলে, নির্ধারিত ৩০ ফুটের বিপরীতে কাটা হয়েছে মাত্র ১০/১৫ ফুট।
জানতে চাইলে পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি রিংকু বলেন, খালের বেশিরভাগ অংশেই বাড়িঘর ছিল। সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনায় সকল অবৈধ বাড়িঘর উচ্ছেদ করে যথাযথ মাপ নিয়ে বাজারের উত্তর অংশের খাল খনন করলেও দরবেশপাড়া বাজার অংশে এসে অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ না হওয়ায় উত্তর অংশের বাড়িঘর হারানো ভুক্তভোগীদের নিকট আমরা জবাব দিতে পারি না। আমরা চাই আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হউক। এতে কারও কোনো অভিযোগ থাকবে না।
এ বিষয়ে লালমাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি ড. শাহজাহান মজুমদার বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ২০,০০০ কিলোমিটার খাল খনন ও পুন:খননের অংশ হিসেবে পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নে প্রায় ৫ কিলোমিটার খাল খননের কার্যক্রম শুরু হয়।
এতে খালের পাশের ৪২টি গ্রামের প্রায় ২৫০০ কৃষি পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে এবং জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণ পাবে ২ হাজার হেক্টর কৃষি জমি। কিন্তু মার্কেট বা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করে খাল খনন করলে খালের প্রকৃত নাব্য ও পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। যা সরকারি অর্থের অপচয় বাড়ায় এবং জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এখানে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুব্রত বিশ্বাস দাস বলেন, আমি যোগদানের পরই বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া জানান, দেশব্যাপী চলমান নদী ও খাল খনন কর্মসূচির পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। লালমাইয়ে খাল খনন কার্যক্রম শুরুর দিনই বলেছি, যারা খাল দখল করেছে তাদের দখলদায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে। সুতরাং সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা রাখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে।



