কটিয়াদীতে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে জমি দখলের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার কটিয়াদী ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেওয়ায় বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে।
এ ঘটনায় সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে পুনরায় জমি পরিমাপ করে প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুহুল আমিন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, কটিয়াদী মৌজার ১১৫৯ নম্বর চর্চা খতিয়ানের ৬৬৭ নম্বর দাগভুক্ত জমির বৈধ মালিক তিনি। কিন্তু সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ না করেই বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, বিদ্যালয়ের তিন পাশেই তার বসতবাড়ি অবস্থিত এবং নির্মাণাধীন প্রাচীরের একটি অংশ তার ব্যক্তিগত জমির ভেতরে চলে এসেছে। এতে তিনি আর্থিক ও সম্পত্তিগত ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
রুহুল আমিন বলেন, হরিদাস সাহার কাছ থেকে তিনি বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছেন এবং তার কাছে নিবন্ধিত দলিল, নামজারি (খারিজ), খাজনা পরিশোধের রশিদসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র রয়েছে। তিনি বলেন, সিএস, আরএস, বিএস ও মাঠ পর্চা অনুযায়ী জমির প্রকৃত মালিকানা সহজেই যাচাই করা সম্ভব। প্রশাসন যদি সরকারি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী পরিমাপ করে, তবে তিনি সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।
অন্যদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিজা সুলতানা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে কোনো সীমানা প্রাচীর ও নিরাপদ গেট না থাকায় বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত রয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয় থেকে বৈদ্যুতিক ফ্যান চুরির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত প্রাচীর নির্মাণের বিকল্প নেই।
তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একাধিকবার সরেজমিনে এসে জমি পরিমাপ করেছেন। বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমাণ ২৬ দশমিক ১২ শতক। প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠলেও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার মার্কেট ১৬ থেকে ১৮ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। যদি অন্যের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণ করা হতো, তাহলে এতদিন প্রশাসন ব্যবস্থা নিত।
একইভাবে স্থানীয় ব্যবসায়ী রঞ্জুও অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, সড়ক ও জনপথ (সিএন্ডবি) বিভাগের জন্য জমি অধিগ্রহণের পর অবশিষ্ট পৈতৃক জমির ওপর তিনি মার্কেট নির্মাণ করেছেন। বিদ্যালয়ের সীমানার সঙ্গে তার স্থাপনার কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, আপত্তির পর সরকারি সার্ভেয়ার দিয়ে বিদ্যালয়ের জমি পুনরায় পরিমাপ করা হয়েছে। পরিমাপে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের পুরোনো সীমানার কিছু অংশ বর্তমানে সড়ক ও সিএন্ডবি এলাকার মধ্যে পড়েছে, যেখানে কয়েকটি দোকান নির্মিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এসব দোকানকে অবৈধ স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিমাপের সময় পাশের এক মালিকের জমির কিছু অংশও বিদ্যালয়ের সীমানার মধ্যে পড়েছে। ফলে বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সব জটিলতার নিষ্পত্তি হওয়ার পরই সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, বিদ্যালয়ের সীমানা নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের পরই প্রাচীর নির্মাণ করা হবে। পরিমাপে যদি বিদ্যালয়ের জমিতে কোনো দোকান বা স্থাপনা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির বৈধ জমি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।



