চাঁদপুরের মেয়ে সামিরার সাফল্য: জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন
চাঁদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১১:৩০ এএম
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় রচনা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন চাঁদপুরের কৃতি শিক্ষার্থী সামিরা মেহনাজ নুসরাত। তিনি চাঁদপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জমকালো জাতীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সামিরার হাতে পুরস্কার, সম্মাননা স্মারক ও সনদ তুলে দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পর্যায়ে এই গৌরবোজ্জ্বল গৌরব অর্জনের আগে সামিরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য চাঁদপুর জেলার জন্য এক অনন্য গৌরব বয়ে এনেছে।
সামিরা চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর পিতা জি এম শাহজাহান আহমেদ এবং মাতা মোসা. মোবাশ্বেরা আক্তার। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি চাঁদপুরের সুপরিচিত সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চাঁসক নাট্যমঞ্চ’-এর একজন সক্রিয় সদস্য।
উল্লেখ্য, মেধাবী এই শিক্ষার্থী এর আগেও অসংখ্য জাতীয় ও স্থানীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি ‘জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬’-এ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন। এ ছাড়া সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একাধিকবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন তিনি।
পুরস্কার গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় সামিরা মেহনাজ নুসরাত বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। এই অর্জন আমাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। আমি লেখালেখি ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে চাই।” তিনি এই সাফল্যের জন্য তাঁর পিতা-মাতা, শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সামিরার এই গৌরবময় অর্জনে চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক মণ্ডলী অত্যন্ত আনন্দিত। শিক্ষকরা জানান, সামিরা একজন অত্যন্ত মেধাবী, দায়িত্বশীল ও সৃজনশীল শিক্ষার্থী। তাঁর এই অর্জন কলেজের পাশাপাশি পুরো জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। স্থানীয় শিক্ষাবিদদের মতে, সামিরার এই ধারাবাহিক সাফল্য নতুন প্রজন্মকে শিক্ষা, সৃজনশীলতা ও অধ্যবসায়ে আরও বেশি উৎসাহিত করবে।



