সরকারি বরাদ্দ নেই, তবু শিক্ষার্থীদের জন্য নিজের উদ্যোগে মাঠে নাগেশ্বরী ইউএনও
কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:০৫ এএম
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও তৎসংলগ্ন বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিদ্যালয় দুটির মাঠ ও আশপাশে পানি জমে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান, খেলাধুলা এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল। দূর থেকে দেখে মনে হয়, যেন পানির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে দুটি বিদ্যালয় ও পাশের ঈদগাহ মাঠের মিনার।
বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানার পর শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম খোদাদাদ হোসেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপলাইন স্থাপনের কাজের উদ্বোধন করেন এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের ঘোষণা দেন।
পরিদর্শনকালে ইউএনও এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, বর্তমানে এ খাতে সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে এক লাখ টাকা ধার করে আপাতত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে স্থায়ী ড্রেনেজ নির্মাণের মাধ্যমে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিদ্যালয়ের মাঠ, বারান্দা ও আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পাশের সড়কের পুরোনো কালভার্টটি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে তা নির্মাণ করা হয়নি। পরবর্তীতে কালভার্টের মুখের দুই পাশে বালু ভরাট করে দেওয়ায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে এবং পাঠদান কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে অনেক সময় কাদায় পিছলে পড়ে বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেও বিঘ্ন ঘটছে।
সাপখাওয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণি বলেন, ভেঙে যাওয়া কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং একটি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে দীর্ঘদিনের এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় নবাগত ইউএনওর প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। তাদের ভাষ্য, মানুষের সমস্যার কথা শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার এমন উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করেছে।
পানি নিষ্কাশন কাজের উদ্বোধনকালে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ কবীর, উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল মান্নান মিঞা, রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দীপ মণ্ডল, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আজিজুল হক, ড্রেনেজ নির্মাণের জন্য জমিদাতা দুই ভূমিমালিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



