‘যেই মুখে ডাকি মা, সেই মুখে মাদক না’ স্লোগানে পাকুন্দিয়ায় মানববন্ধন
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১২:০২ এএম
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততায় মাদকবিরোধী মতবিনিময় সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধ, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির প্রত্যয়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের পুটিয়া বটতলা বাজারে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, ছাত্র-যুব সমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এ মাদকবিরোধী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বুরুদিয়া ইউনিয়নের সচেতন নাগরিক সমাজ, ছাত্র ও যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান, উপজেলার গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সুমন, গণঅধিকার পরিষদ বুরুদিয়া ইউনিয়ন শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব জাকির হোসেন, ৫ নম্বর বুরুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া, বুরুদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন বাচ্চু, ইসলামি আন্দোলনের কাওছার ভূঁইয়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বুরুদিয়া ইউনিয়নের আমির আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শেষে উপস্থিত সবাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
“যেই মুখে ডাকি মা, সেই মুখে মাদক না”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানসম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। পরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহ সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরে এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদকের কারণে পারিবারিক অশান্তি, অপরাধপ্রবণতা, শিক্ষার অবনতি এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। তাই মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তারা আরও বলেন, তরুণ সমাজই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। এ শক্তিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োজকরা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক কারবারি ও মাদকসেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুরোধ জানান তারা।



