রামুতে শয়নকক্ষ থেকে রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী আটক
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:১৭ পিএম
কক্সবাজারের রামুতে নিজের শয়নকক্ষে ‘রক্তাক্ত’ হয়ে রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
তবে স্বজনদের দাবি, পরকীয়া প্রেমের জেরে স্ত্রীর সহযোগিতায় পরিকল্পিতভাবে খুনের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের থোয়াইঙ্গাঢেবা কালারপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত ছৈয়দ হোছন (৪৫) একই এলাকার মৃত মোজাফফরের ছেলে। তিনি তিন সন্তানের জনক।
ঘটনায় আটক হয়েছে নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম।
নিহতের ছোট ভাই এনামুল হক অভিযোগ করে বলেন, তার ভাবী আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে স্থানীয় আকতার মিয়া নামের জনৈক ব্যক্তির মধ্যে গত ২/৩ বছর ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ বিরাজ করছে। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বাড়ির সবার সঙ্গে কথা বলে নিজের বাড়িতে যান ছৈয়দ হোছন।
বৃহস্পতিবার ভোরে আমার ভাই ছৈয়দ হোছন নিহতের খবর দেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিজের শয়নকক্ষ থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে। মারধরের আঘাতে চোখ, কান ও নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া এবং গলায় নখের আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে।
অভিযোগ করেন তিনি বলেন, পরকীয়া প্রেমিকের যোগসাজশে আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে আনোয়ারা বেগম। পরকীয়া প্রেমিক আকতার মিয়া ও আনোয়ারা বেগমকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে খুনের ঘটনার রহস্য বের হয়ে আসবে।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া জানান, সকালে খবরটি অবহিত হওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রক্তাক্ত অবস্থায় নিজের শয়নকক্ষে পড়ে থাকা মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনাটি কী কারণে ঘটেছে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি উল্লেখ করে তিনি জানান, ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে পুলিশ আটক করেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
নিহতের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান, ওসি মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া।



