বন্যহাতির উপদ্রব রোধে দুর্গাপুর সীমান্তে ২০টি সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপন
নেত্রকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ও দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যহাতির উপদ্রব এবং প্রাণহানি প্রতিরোধে ২০টি সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) উপজেলার দাহাপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পাহাড়ি সীমান্তবর্তী সড়কের পাশে স্থাপিত স্ট্রিটলাইটগুলোর উদ্বোধন করা হয়।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিশেষ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দারা বন্যহাতির আতঙ্কে জীবনযাপন করছেন। প্রায়ই ১৭ থেকে ৩০টি হাতির দল সীমান্ত পেরিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে ফসলি জমি, ফলের বাগান ও বসতবাড়িতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। পাশাপাশি হাতির আক্রমণে একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ গত ৫ মে দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের ভবানিপুর এলাকায় বন্যহাতির আক্রমণে পার্থ রাংসা নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর এলাকাবাসীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ডেপুটি স্পিকার সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপনের নির্দেশনা দেন। নিহত পার্থ রাংসার পিতা আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আদিবাসী নেতা অঞ্জন চিসাম বলেন, “হাতির আক্রমণে এক তরুণের মৃত্যুর পর ডেপুটি স্পিকার মহোদয় দ্রুত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আজ ২০টি সোলার স্ট্রিটলাইট স্থাপন করা হয়েছে। আলো থাকলে হাতি সাধারণত লোকালয়ে প্রবেশ করতে নিরুৎসাহিত হয়। তবে সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকার তুলনায় এ সংখ্যা এখনও পর্যাপ্ত নয়। আগামীতে আরও স্ট্রিটলাইট স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা চামেলা সাংমা ও মো. জাফর আলী জানান, ধান ও বিভিন্ন ফল পাকার মৌসুমে হাতির উপদ্রব বেড়ে যায়। প্রায় প্রতি রাতেই হাতির দল লোকালয়ে প্রবেশ করে ফসল ও ঘরবাড়ির ক্ষতি করে। সোলার লাইট স্থাপনের ফলে এলাকাবাসী কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন এবং হাতির আক্রমণ কমবে বলে আশা করছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এবং দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। স্ট্রিটলাইট স্থাপন শেষে সকলের অংশগ্রহণে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।



