বিদ্যুতের তারে কৃষকের মৃত্যু, বাবাকে খুঁজতে গিয়ে আহত ছেলে
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
বগুড়ার শেরপুরে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পল্লী বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়া ১১ হাজার ভোল্টের তারে জড়িয়ে কোরবান আলী (৪৫) নামে এক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ বাবাকে খুঁজতে গিয়ে একই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার ছেলে মো. রবিন (১৮)। এদিকে ফসলি জমিতে স্বামী ও ছেলেকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন স্ত্রী রুবি খাতুন (৩৫)। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার (১৯ জুন) বগুড়ার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের টুনিপাড়া মৌজায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। হতাহতদের বাড়ি একই ইউনিয়নের কেল্লা আকন্দপাড়া গ্রামে।
নিহতের ভাতিজা নুর আলম ও শ্যালক আব্দুল কাদের জানান, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে কোরবান আলী নিজ জমিতে কৃষিকাজ করতে যান। সেখানে সেচ পাম্পের জন্য টানা ১১ হাজার ভোল্টের একটি বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে জমির ওপর ঝুলে ছিল। অসাবধানতাবশত ওই তারে জড়িয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সারাদিন বাড়িতে না ফেরায় সন্ধ্যার দিকে ছেলে রবিন বাবার খোঁজে ওই জমিতে যান। অন্ধকারে জমিতে পড়ে থাকা বাবার দেহ স্পর্শ করতেই তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়েন। পরে রাত ৭টার দিকে রুবি খাতুন প্রতিবেশী একজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী ও সন্তানকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
পরে স্থানীয়রা শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে খবর দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর কোরবান আলীর মরদেহ ও আহত রবিনকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রবিন সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে রুবি খাতুনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাতেই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, তিন দিন আগে ঝড়ো হাওয়ায় সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ লাইনটি ছিঁড়ে পড়ে ছিল। কিন্তু সেচ পাম্পের মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব না দেওয়ায় এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তবে শেরপুর পল্লী বিদ্যুতের জোনাল কার্যালয়ের পরিদর্শক সবুজ কুমার হালদার বলেন, ছিঁড়ে পড়া তারের বিষয়ে স্থানীয় কেউ তাদের অবহিত করেননি। খবর পাওয়ার পরপরই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে লাইনটি মেরামত করা হয়েছে।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।



