অন্তঃসত্ত্বা নারীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে বিএনপির সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে মামলা
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম
পড়নের কাপড় টেনে হেচড়ে খোলে ফেলার অভিযোগ এনে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন অন্তঃসত্ত্বা এক নারী। আর এই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলন। এই ঘটনায় মামলায় আরো দুই জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। আর মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী পপি আক্তার নামে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা একজন নারী উদ্যোক্তা।
মামলার আসামিরা হলো- মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলন (৫০), একই উপজেলার হাররদিয়া এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে আব্দুল জব্বার (৩০) এবং অর্জুনচর এলাকার মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে মোক্তার উদ্দিন তালুকদার (৪৮)।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে অন্তঃসত্ত্বা নারী উদ্যোক্তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এরই জের ধরে গত ৭ মে দুপুরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার বিউটি পার্লারে ঢুকে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী উদ্যোক্তার ওপর হামলা চালায়। এসময় প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে ওই নারী গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা দোলন অন্তঃসত্বা নারীর কাপড়চোপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করে এবং নারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। এসময় আব্দুল জব্বার নামে অন্য আসামী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডয়ারে থাকা ৫২ হাজার টাকা এবং মোক্তার উদ্দিন তালুকদার গলায় থাকা আটআনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
এসময় তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই অন্ত:সত্বা নারীকে কটিয়াদি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এব্যাপারে ভোক্তভাগী নারী পপি আক্তার বলেন, চিকিৎসা শেষে মনোহরদী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে রাজি হয়নি। বলছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে যেতে, আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু আজপর্যন্ত কোনো মামলা বা জিডিও করেনি থানা পুলিশ। দীর্ঘ দিন চেষ্টার পর থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে নরসিংদী কোর্টে গত ১৮ জুন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। আমার ও আমার অনাগত সন্তানের উপর হামলাকারীদের বিচার চাই।
এব্যাপারে অভিযুক্ত মো. আমিনুর রহমান সরকার দোলন এর সাথে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসির্ভ করেননি।
মামলা নেওয়ার ব্যপারে গরিমসি করার বিষয়টি অস্বীকার করে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, এধরণের কোনো ঘটনার ব্যাপারে আমি অবগত নই। কোনো নারীও থানায় কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি।



