সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ৩৩ দিন পর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক আব্দুল মন্নান। তার সঙ্গে দুই ভাইকেও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এসএমপি জালালাবাদ থানার এসআই নূর উদ্দিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯ (২) এবং পেনাল কোডের ২০১ ধারায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। চার্জশিটে ২১ জন সাক্ষী এবং দুটি আলামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বাড়ি সিলেটের জালালাবাদ থানার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে। তারা নিহত শিশুর চাচা। বর্তমানে প্রধান আসামি জাকির হোসেন কারাগারে থাকলেও তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালাম পলাতক রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। দুই দিন পর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১১ মে রাতে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়। শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় এবং অজ্ঞান হয়ে গেলে গলা টিপে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ব্রিফকেসে লুকিয়ে ডোবার পাশে ফেলে রাখা হয়।
ঘটনার পর সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের বাড়িতে অগ্নিসংযোগও করে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধান আসামি জাকির হোসেনের পাশাপাশি তার দুই ভাইকে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্ট বিলম্ব ও ঈদের ছুটির কারণে তদন্তে সময় লাগে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।



