বৃত্তি ও সম্মাননায় উজ্জীবিত কিশোরগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থীরা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৮:০১ পিএম
“মেধার স্বীকৃতি, আগামীর নেতৃত্ব” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলার কৃতী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এ আয়োজন করে সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক সংগঠন গ্লোবাল ফোরাম অব কিশোরগঞ্জ।
শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সুধীজনের উপস্থিতিতে মিলনায়তন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
গ্লোবাল ফোরাম অব কিশোরগঞ্জের সহ-সভাপতি ও ইউনাইটেড কেয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (আইআইআইটি)-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং ইউনিভার্সিটি অব ইন্টিগ্রেটেড থট (ইউআইটি) ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম. আব্দুল আজিজ পিএইচডি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত দারুসসালাম মসজিদের খতিব ও দারুসসালাম একাডেমির প্রধান শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্লোবাল ফোরাম অব কিশোরগঞ্জের কো-অর্ডিনেটর জুনায়েদ সাকী।
স্বাগত বক্তব্যে ড. মাসুদুর রহমান সংগঠনের বিভিন্ন মানবিক, শিক্ষাবিষয়ক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “গ্লোবাল ফোরাম অব কিশোরগঞ্জ শুধু বৃত্তি প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা, নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, মানবিক উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণে জেলার মানুষের পাশে থাকবে আমাদের সংগঠন।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাফেজ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “মেধা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নিয়ামত। এই মেধাকে সঠিক শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে বিকশিত করতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, একজন আদর্শ মানুষ হিসেবেও নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের চর্চা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, আত্মশুদ্ধি এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক এম. আব্দুল আজিজ বলেন, “একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হলো শিক্ষিত, দক্ষ ও মেধাবী তরুণ প্রজন্ম। তাদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। আজকের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।”
তিনি বলেন, “শিক্ষা কোনো ব্যয় নয়, বরং এটি একটি বিনিয়োগ। যে জাতি শিক্ষায় বিনিয়োগ করে, সেই জাতিই উন্নয়নের শিখরে পৌঁছায়। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের শিক্ষার প্রসারে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী অর্থাভাবে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়ে।”
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গ্লোবাল ফোরাম অব কিশোরগঞ্জ আয়োজিত বৃত্তি পরীক্ষায় জেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার প্রায় ১ হাজার ৩০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতামূলক এ পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাই শেষে নির্বাচিত ১৩ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা স্মারক, সনদপত্র এবং বৃত্তি প্রদান করা হয়।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করা হলে মিলনায়তনে উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিরা করতালির মাধ্যমে তাদের অভিনন্দন জানান। পরে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র, ক্রেস্ট এবং বৃত্তির অর্থ তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ ধরনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, মেধাবীদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান শুধু পুরস্কার নয়, এটি শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং আরও ভালো ফলাফল অর্জনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীরাও এ ধরনের স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হবে।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, মানবিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গঠনে আজকের শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই তাদেরকে শুধু মেধাবী নয়, সুনাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও শুভকামনা জানানো হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেদের মেধা, জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান অতিথিরা। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জেলার মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক ও অনুপ্রেরণামূলক একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।



