সবুজ ভবিষ্যতের প্রত্যয়ে কটিয়াদীতে শতাধিক গাছ লাগাল ‘আস্থা’
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শতাধিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে সামাজিক সংগঠন ‘আস্থা’। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার মসূয়া-আমতলী সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেন সংগঠনটির সদস্যরা। সবুজায়নের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় বলে জানান আয়োজকরা।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মসূয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাল, মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাসান আল মামুন, মসূয়া উচ্চ বিদ্যালয় মসজিদের খতিব ক্বারী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম,মোহাম্মদ রাফি, তরুণ সমাজসেবক কামরুল হাসান সোহাগ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রভাষক আল আমিন এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন।
অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সামাজিক সংগঠন ‘আস্থা’র নির্বাহী পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কবির ও হুমায়ুন কবির মঙ্গল। এছাড়াও সংগঠনের সদস্য মনির হোসেন জনি, মোফাজ্জল হোসেন, রুহান মিয়া, আরমান হোসেনসহ স্থানীয় যুবসমাজের অনেকেই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মসূয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার পাল বলেন, “পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে যেভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিবেশের অবনতি ঘটছে, তাতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তরুণদের এই সামাজিক সংগঠন ‘আস্থা’ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। আমি আশা করি, তারা শুধু গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না; বরং চারাগুলোকে বড় করে তোলা পর্যন্ত নিয়মিত পরিচর্যা করবে।”
মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি হাসান আল মামুন বলেন, “একটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে সেই পরিমাণ বনভূমি নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে ঝুঁকি ও ক্ষতির মুখোমুখি আমরা হচ্ছি, তা মোকাবিলায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। ‘আস্থা’র এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অনুকরণীয়। তরুণ সমাজ যদি এভাবে সামাজিক ও পরিবেশগত দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সুন্দর, সবুজ ও বাসযোগ্য সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
আয়োজক সংগঠন ‘আস্থা’র নেতৃবৃন্দ জানান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রোপণ করা প্রতিটি চারার নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সেগুলো ভবিষ্যতে বড় গাছে পরিণত হয়ে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তারা আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের দায়িত্ব নয়; এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। তাই পরিবেশকে দূষণমুক্ত ও সবুজ রাখতে সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব সম্পর্কেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।



