শেরপুরে গ্রামবাসীর উদ্যোগে নতুন রাস্তা নির্মাণ, দুর্ভোগ কমল স্কুলশিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৬:১১ পিএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের স্বরো ও হলদীবাড়ি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে নতুন একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকাল ৯টা থেকে গ্রামবাসীরা একযোগে কাজ করে ছোনকা-চোমরপাথালিয়া পাকা সড়ক থেকে স্বরো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা নির্মাণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বরো ও হলদীবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং রোগীদের যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি রাস্তা ছিল না। তাদেরকে কয়েকজন ব্যক্তির বসতভিটার ওপর দিয়ে চলাচল করতে হতো। সম্প্রতি চলাচলের ওই পথে বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নতুন রাস্তার একটি অংশ স্থানীয় মসজিদের জমি এবং কিছু ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তা নির্মাণের শুরুতে স্বরো গ্রামের জুলফিকার আলী বকুল মসজিদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণে আপত্তি জানান। পরে গ্রামবাসীরা মসজিদের নামে দুই শতক জমি ক্রয় করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলে বিষয়টি সর্বসম্মতিক্রমে সমাধান হয় এবং রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়।
এ সময় শেরপুর উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সভাপতি লিটন আহম্মেদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, হলদীবাড়ি গ্রামের মানুষ এবং স্বরো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে চলাচল করতে হতো। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করেছে।
ভবানীপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল হান্নান বলেন, এই রাস্তা নির্মাণের ফলে কৃষকরা সহজে ফসল ও কৃষি উপকরণ পরিবহন করতে পারবেন। পাশাপাশি জরুরি সময়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।
স্বরো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সৈয়দা হাবিবা বলেন, আজ স্কুল বন্ধ থাকায় আমি লোকমুখে বিষয়টি জেনেছি। নতুন রাস্তা নির্মিত হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে অনেক সুবিধা হবে। কিছুদিন আগে লিটন আহম্মেদ ও ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল মোমিনের সঙ্গে রাস্তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। রাস্তা হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত।
স্থানীয়দের মতে, নতুন এই রাস্তা শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, বরং দুই গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেছে। গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্মিত এই রাস্তা এলাকায় সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।



