কবরস্থান ও বসতভিটা দখল করে বিএনপি কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ, অষ্টগ্রামে দুই নেতাকে ঘিরে বিতর্ক
কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে পারিবারিক কবরস্থান ও পৈতৃক বসতভিটা দখল করে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের এক নেতার সহযোগিতায় জমিটি দখল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত আলী খান বাবুল।
অভিযোগের তীর যাদের দিকে তারা হলেন- অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ এবং অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সজু মিয়া। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির এই দুই নেতা দাবি করেছেন, বৈধ কাগজপত্রের ভিত্তিতেই দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী দাবি করা সাখাওয়াত আলী খান বাবুল বলেন, তিনি অষ্টগ্রাম উপজেলার মসজিদজাম গ্রামের বাসিন্দা এবং একসময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, হামলা ও মামলার মুখে ২০১০ সালে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় চলে যেতে বাধ্য হন। তার দীর্ঘ অনুপস্থিতির সুযোগে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল হক হায়দারী বাচ্চুর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তার পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন ৯ দশমিক ৫ শতাংশ জমি দখল করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে তিনি তার বড় চাচার কাছ থেকে দুটি টিনশেড ঘরসহ উক্ত সম্পত্তি প্রায় ২০ লাখ টাকায় রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। এরপর বিদেশে অবস্থানকালে জমিটি দখলে চলে যায়।গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফিরে নিজের জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেন। এ বিষয়ে একাধিকবার উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। বরং সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
সাখাওয়াত আলী খান বাবুল দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ এর কয়েকদিন আগে তার বাড়ির সামনের অংশে থাকা পারিবারিক কবরস্থানকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেখানে তার আপন চাচির কবর ছিল। তার অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদের উপস্থিতিতে কবরস্থানটি ভেঙে ফেলা হয় এবং স্থানটি মাটি দিয়ে ভরাট করে সেখানে আধাপাকা টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হয়। পরে ভবনটিতে ‘বিএনপি কার্যালয়’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি ও পারিবারিক কবরস্থান ফেরত পাওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে আলোচনার উদ্যোগ নিলে অভিযুক্তরা তাকে সমাজচ্যুত করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়েছেন। স্থানীয়ভাবে কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন।
বাবুলের দাবি, একটি পারিবারিক কবরস্থান দখল করে রাজনৈতিক দলের কার্যালয় নির্মাণের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার লঙ্ঘনই নয়, এটি সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধেরও পরিপন্থী। এমন কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ। তিনি বলেন, কারও জমি দখল করে বিএনপির অফিস করা হয়নি। অফিসটি বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই করা হয়েছে। যদি জমি দখলের ঘটনা ঘটত, তাহলে এতদিন পরে কেন অভিযোগ তোলা হচ্ছে? জায়গার সব ধরনের বৈধ কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাখাওয়াত আলী খান বাবুল একসময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত নন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে আমার এবং সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সজু মিয়ার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জমির মালিকানা, কবরস্থান ভাঙার অভিযোগ এবং বিএনপি কার্যালয় নির্মাণের বৈধতা নিয়ে এখন স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমেই এ ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।



