হেফজখানা নির্মাণে বাধা, দখলচেষ্টা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ক্রয়কৃত জমিতে হেফজখানা নির্মাণে বাধা, প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা, সাজানো মিথ্যা মামলা এবং দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও আইনি হয়রানির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ জামাল উদ্দিন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় সোলাইমান দফাদার ও আবদুর রশিদ পরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নস্যাৎ করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলার আলেকজান্ডার বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামাল উদ্দিনের পক্ষে তাঁর ছেলে মো. সুমন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চরআলগী ইউনিয়নের রব রোড এলাকায় আমজাদীয়া জামে মসজিদের সামনে স্থানীয় আবদুল মালেকের কাছ থেকে ৬৫ শতক জমি ক্রয় করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন। ওই এলাকায় কোনো হেফজখানা বা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে সেখানে একটি হেফজখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪৬ শতক জমির নামজারি সম্পন্ন হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন।
তবে অবশিষ্ট ১৬ শতক জমি নিয়ে চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার সোলায়মান ও আবদুর রশীদের সঙ্গে বিরোধ চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ওই জমির মালিকানা দাবি করে তারা আদালতে মামলা দায়ের করে দলিল ও নামজারি কার্যক্রম আটকে দিয়েছে। পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণ করে জোরপূর্বক দখলে রেখেছে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন কখনোই বলপ্রয়োগ বা বেআইনি উপায়ে জমি দখলের চেষ্টা করেননি। কিন্তু তাঁর নিজস্ব ৪৬ শতক জমিতে হেফজখানার জন্য মাটি ভরাটের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে পরিবারটিকে মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, গত ৩ জুন সকালে হেফজখানার জন্য নির্ধারিত জমিতে মাটি ভরাট করতে গেলে সোলায়মান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গাড়ির সামনে শুয়ে পড়ে কাজ বন্ধের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ, মরিচের গুঁড়া ছিটানো এবং শ্রমিকদের ওপর হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। এতে হেলাল নামের এক পথচারীসহ কয়েকজন আহত হন। আহত হেলাল বর্তমানে রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ ও সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে কোনো সমাধান হয়নি। বরং ঘটনাগুলো ঘটানোর পর তারাই আদালতে গিয়ে মামলা করে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের আসামি বানিয়ে হয়রানি করছে।
এ অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। এছাড়াও জমিতে হেফজখানা নির্মাণে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, দখল ও হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত সোলাইমান দফাদার বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব জমির ওপর বসতঘর নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি বসতঘরের পাশের খালি জায়গাটি নিজেদের দাবি করে সুমন ও তার সহযোগীরা সেখানে মাটি ভরাট করে আমাদের জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ সময় তারা ভাড়াটে লোকজন এনে আমাদের ওপর হামলা ও বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালায়। হামলায় আমার পরিবারের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।



