বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা মধ্যপাড়া গ্রামে গরু চরানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের অভিযোগ তুলেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১টার দিকে গ্রামের মৃত কাইয়ুমের ছেলে পান্নু (৩৫) শাহিন আলমের বাড়ির পাশের জমিতে গরু চরাতে যান। এ সময় গাছপালা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে শাহিন আলম তাকে গরু অন্যত্র নিয়ে যেতে বলেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পান্নুর পরিবারের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় পান্নুর উরুতে বটি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে তার ভাই খোরশেদ (৪৫) মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে আহত দুজনকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে শাহিন আলমের দাবি, ঘটনার জেরে বিকেল ৪টার দিকে খোরশেদ তার লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় বাড়ির দুটি কাঁচের জানালা ও একটি বৈদ্যুতিক মিটার ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা তাকে মারধরের পাশাপাশি তার স্ত্রী মোছা. আরজিনা বেগম, পুত্রবধূ এবং ছেলে শাকিল, মনির ও আরিফকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাহিন আলম আরও অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা ঘরের খাটের নিচে রাখা ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, শাহিন আলমের ছেলে শাকিল ফুলতলা সড়কে উঠলে খোরশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি তাকে ধাওয়া করেন। তবে তিনি দৌড়ে সেখান থেকে সরে যেতে সক্ষম হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ এখন দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিকাশ জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



