শেরপুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, সন্তানসহ পলাতক শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় নিলুফা আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরের ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তাঁর সঙ্গে বসবাসকারী শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি নিহতের দুই বছরের সন্তানকেও তারা সঙ্গে নিয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের দড়িমুকুন্দ উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নিলুফা আক্তারের স্বামী এখলাস আলী ট্রাকচালকের সহকারী হিসেবে কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্যমতে, অন্তত তিন দিন ধরে তিনি গাড়ির কাজে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। নিলুফা তাঁর দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে শ্বশুর মো. মঞ্জু (৬৫), শাশুড়ি রত্না বেগম এবং দেবর মো. মোস্তাকিনের (১৬) সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করতেন।
প্রতিবেশী লাভলী বেগম জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ওই বাড়ি থেকে কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন সেখানে ছুটে যান। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, মেঝেতে কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় নিলুফার মরদেহ পড়ে রয়েছে। মরদেহের মাথার পাশে একটি মোমবাতি জ্বলছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে রাতেই শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নিহতের শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তাঁদের সঙ্গে নিহতের দুই বছরের সন্তানও রয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা পর্যন্ত তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল। শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় বাড়িতে থাকা পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন ও রহস্যের জন্ম হয়েছে। গৃহবধূর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা জানতে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।



