নরসিংদীর মধ্য-শিলমান্দী এলাকা থেকে ফাহিম মিয়া (১৭) নামে এক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার মধ্য-শিলমান্দী এলাকার জোড়া ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন একটি পুকুরপাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফাহিম মিয়া সদর উপজেলার মধ্য-শিলমান্দী এলাকার বাসচালক রুহুল আমিনের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালাতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ফাহিম। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি সর্বশেষ তার বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। সে সময় তিনি জানান, কয়েকজন ব্যক্তি তার পিছু নিয়েছে এবং তিনি ইজিবাইক নিয়ে সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এরপর হঠাৎ করেই ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে ফাহিমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে নরসিংদী সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলের কাছেই ফাহিমের ইজিবাইকটি পাওয়া গেলেও এতে থাকা চারটি ব্যাটারি অনুপস্থিত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ব্যাটারিগুলো নিয়ে গেছে।
নিহতের বাবা রুহুল আমিন জানান, ছেলের কাছ থেকে পাওয়া শেষ ফোনকলের পর তিনি প্রতিবেশীদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন। কিন্তু রাতভর অনুসন্ধানের পরও কোনো খোঁজ মেলেনি। সকালে ছেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান, পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটির মাথার অংশ পানিতে এবং পায়ের অংশ পাড়ে ছিল। প্রাথমিকভাবে নিহতের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হলেও এর চারটি ব্যাটারি পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



