বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মাদক প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে বরের বাড়িতে হামলা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ১১:০৮ এএম
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে গণঅধিকার পরিষদের এক স্থানীয় নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মাদক ইস্যুতে প্রতিবাদ এবং মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
রবিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের ৫ নম্বর কর্শাকড়িয়াইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সেলিম খান মৃত মোহাম্মদ রইস উদ্দিন খানের ছেলে এবং কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, সেলিম খানের বাড়িতে প্রায় ৩০০ অতিথির উপস্থিতিতে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজন যুবক বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল রেখে পাশের এলাকায় যায়। মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ওই ঘটনার জেরে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বাড়ির জানালা-দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, গলার চেইন, আংটিসহ মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায় বলেও দাবি করা হয়েছে।
সেলিম খানের বোন মদিনা উল্লেখ করেছেন, মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলার পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত। পরে একদল লোক বাড়িতে এসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সোহেল জানিয়েছেন, মোটরসাইকেল রাখা নিয়ে কথা-কাটাকাটির পর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুরের চিহ্ন দেখেছেন।
সেলিম খানের ভাষ্য, তিনি শুধু বাড়ির সামনে থেকে মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলেছিলেন। এর জেরে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। পরে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
তিনি আরও দাবি করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও ব্যবসার প্রতিবাদ করে আসছিলেন। সেই কারণেও তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা জানিয়েছেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।



