নরসিংদী আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
নরসিংদীর রায়পুরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে একটি মামলার হাজিরা শেষে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের বিচারককে অবহিত করেন। ঘটনাটি আদালত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
হুমকির শিকার সাংবাদিক হলেন দৈনিক নরসিংদীর বাণী পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক এবং নরসিংদী প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মো. ফারুক মিয়া।
জানা গেছে, প্রতারণার মাধ্যমে সাংবাদিক ফারুক মিয়ার পৈত্রিক ভোগদখলীয় জমি বিক্রির অভিযোগে তিনি আদালতে সিআর-১১০/২৫ নম্বর মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে সিআইডি পুলিশ মোস্তফা মোমেন, মোস্তফা হেলাল উদ্দিন, মোস্তফা মোসাদ্দেক, মোস্তফা দিলকী তামান্না, মোস্তফা জাবেদ কামাল রিয়াদ, ফাইজিয়া বিলকিস, আফরোজা বিলকিস, মাহবুবা বিলকিস ও মো. জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে জাবেদ কামাল রিয়াদ ছাড়া অন্য আসামিরা আদালতে হাজির হয়ে জামিন নেন।
বৃহস্পতিবার মামলার ধার্য তারিখে বাদী ও আসামিদের আদালতে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। তবে আসামি আফরোজা বিলকিস ও জাবেদ কামাল রিয়াদ আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
বাদী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালত কক্ষ থেকে বের হওয়ার পর আসামিপক্ষ উচ্চস্বরে গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে মামলা প্রত্যাহার না করলে ফারুক মিয়াকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আতঙ্কিত ফারুক মিয়া পুনরায় আদালত কক্ষে আশ্রয় নেন এবং বিচারককে পুরো বিষয়টি জানান।
সাংবাদিক ফারুক মিয়া বলেন,
মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষ আমাকে ও আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে নিরাপত্তার কারণে আমি বাড়িতে যেতে পারছি না। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তিনি আরও জানান, আদালত প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।



